বল হাতেও চমকালেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- ব্যাট হাতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার বল হাতেও নিজের সামর্থ্যের…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।
তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচার আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তার মা গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবার মধ্যে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
নবজাতকের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে পরে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। গত ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
পরে নমুনা পরীক্ষার পর তৈরি করা প্রতিবেদনে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার আদালতে সেই প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার নথিতে যুক্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন মামলার অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au