মক্কা প্যাক্ট নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ, বৈঠকে পাকিস্তান-তুরস্ক।
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আলোচনা যখন জোরালো হচ্ছে, তখন এ উদ্যোগের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, “বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে?” একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে থাকবে এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখবে।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা প্যাক্টে সই করে। চুক্তির মূল বিষয় হলো, প্যাক্টের কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে। ফলে এই জোটে নতুন কোনো দেশের যোগদান হলে তার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্টে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ উদ্যোগের প্রতি ঢাকার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে।
মক্কা প্যাক্ট নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি একটি “অনন্য উদ্যোগ” এবং বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ যে ভূমিকা রাখছে, মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখবে। যে কোনো উদ্যোগে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মক্কা প্যাক্টকে তিনি মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্যাক্টে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এদিকে মক্কা প্যাক্টের প্রথম বৈঠককে ঘিরে পাকিস্তান ও তুরস্কের তৎপরতা বেড়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কেই মক্কা প্যাক্টের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
এই বৈঠকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বাংলাদেশকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মক্কা প্যাক্টের প্রতি ঢাকার প্রকাশ্য আগ্রহের কারণে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগও সেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান দেশটির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।