ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা আটকের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১০
মাগুরার মহম্মদপুরে ইয়াবাসহ ছাত্রদলের এক নেতাকে আটকের পর উত্তেজনার জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে…
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই বৈঠকে ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তারা মনে করে না। তবে একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানকে কোনো দেশ সহায়তা করলে সেই দেশকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মোদী ও পেজ়েশকিয়ানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, তাঁর মনে হয় না ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক দেশই ইরান সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে এবং প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে।
সম্প্রতি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দেন মোদী। সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানও উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের ফাঁকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী।
বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পেজ়েশকিয়ানও এমন কোনো চুক্তির কথা জানাননি। তবে ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।
রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বা বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নেই। তবে কোনো দেশ এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না, যার মাধ্যমে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আয় করার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, কোনো দেশেরই এমন ব্যবস্থা তৈরিতে ইরানকে সহায়তা করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তেহরান আয় করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, বাণিজ্য থেকে পাওয়া অর্থ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগও রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ইরানের দক্ষিণ উপকূলের চাবাহার বন্দর।
আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়াতে ভারত ও ইরান যৌথভাবে চাবাহার বন্দর উন্নয়নে কাজ করেছে। গত কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটির জন্য ভারত অর্থ বরাদ্দ করে এলেও চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরের জন্য নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে সম্প্রতি চারটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক চাপের অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে বা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মোদী-পেজ়েশকিয়ান বৈঠকে সরাসরি কোনো বাণিজ্যচুক্তি না হলেও ভারত-ইরান অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au