গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটতে সময় লাগবে, চুরি-লুটপাট বন্ধে নয়: ক্যাব
দেশের বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট দূর করতে সময় লাগতে পারে, তবে চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে সময় লাগার কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের…
হাঙরের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া অস্ট্রেলীয় নারী লিয়া স্টুয়ার্টকে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘মিথ্যাবাদী’ বলায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন একটি রেডিও অনুষ্ঠানের তিন উপস্থাপক। তবে এ নিয়ে পাল্টা বিতর্কে জড়াতে চান না ৩৪ বছর বয়সী স্টুয়ার্ট। তিনি জানিয়েছেন, নিজের পুনর্বাসন, পরিবার ও এক বছরের মেয়ে আগস্টকে নিয়েই তাঁর এখন সব মনোযোগ।
গত ১৩ জুন সিডনির কুজি বিচে নির্ধারিত সাঁতার এলাকার মধ্যে সাঁতার কাটার সময় চার মিটারের একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙরের হামলার শিকার হন স্টুয়ার্ট। ভয়াবহ ওই হামলায় তাঁর বাঁ হাত হারাতে হয়। পরে ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে সেই ঘটনার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রতি তাঁর সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেডিও অনুষ্ঠান ‘ফিফি, ফেভ অ্যান্ড নিক’-এর উপস্থাপক ব্রেন্ডান ফেভোলা ও কেট ল্যাংব্রুক। অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থাপক ফিফি বক্সের পরিবর্তে দায়িত্বে ছিলেন ল্যাংব্রুক।ন
রেডিও অনুষ্ঠানের মন্তব্য নিয়ে স্টুয়ার্ট বলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানটি শোনার মতো সময়ই পাননি। কয়েকটি সংবাদ শিরোনামের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পেলেও এ নিয়ে তিনি বিশেষভাবে ভাবেননি।
নাইন ডটকম অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টুয়ার্ট বলেন, পুনর্বাসন এবং পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে থাকার ব্যস্ততার কারণে তিনি অনুষ্ঠানটি শোনার সুযোগ পাননি।
তিনি বলেন, ‘সেদিন সৈকতে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন, সেন্ট ভিনসেন্টস হাসপাতালের অসাধারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং যেসব জরুরি সেবাকর্মী আমার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিলেন, তারা জানেন কী ঘটেছিল। আমিও জানি।’
স্টুয়ার্ট আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। তাই সমালোচনার দিকে মনোযোগ না দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা, মেয়ে আগস্টের সঙ্গে সময় কাটানো এবং জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ থাকার দিকেই মন দিতে চান তিনি।

স্টুয়ার্টকে তার মেয়ে অগাস্টের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। কুজি বিচে হাঙরের হামলা থেকে বেঁচে যান তিনি। (ছবি: গোফান্ডমি)
‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে স্টুয়ার্ট জানিয়েছিলেন, এক বছরের মেয়ের কথা মনে করে তিনি জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। হাঙরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার ভয়াবহ মুহূর্তটিও বর্ণনা করেছিলেন তিনি।
স্টুয়ার্ট বলেন, হাঙরটির মুখ ও দাঁত ছিল বিশাল। এর ছোট, কালো চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তটি তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও জানান।
তবে রেডিও অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য নিয়েই প্রশ্ন তোলেন উপস্থাপকরা।
ব্রেন্ডান ফেভোলা বলেন, হাঙর আক্রমণ করলে একজন মানুষের এত কিছু ভাবার সময় থাকার কথা নয়। কেট ল্যাংব্রুকও বলেন, সাধারণত মানুষ এমন পরিস্থিতিতে কী ঘটছে, সেটিই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারে না।
এরপর অনুষ্ঠানে স্টুয়ার্টের সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি হামলার সময় কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন, তা নিয়ে কথা বলেছিলেন।

“হাঙরের হামলায় গুরুতর আহত হন স্টুয়ার্ট। এ ঘটনায় তার একটি হাতের অংশও কেটে ফেলতে হয়। (ছবি: ৬০ মিনিটস)”
ফেভোলা বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলেন, স্টুয়ার্ট কীভাবে সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন যে শরীরের কোন অংশ হারালেও তিনি বাঁচতে চান। এমনকি স্টুয়ার্টের ডান হাত তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ফেভোলা বলেন, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বসে সাক্ষাৎকারটি দেখার সময় তিনি মনে করেছিলেন, স্টুয়ার্ট ‘মিথ্যা বলছেন’ এবং ওই পরিস্থিতিতে এত কিছু ভাবার সুযোগ থাকার কথা নয়।

হাঙরের হামলার পর জীবন বাঁচাতে একের পর এক অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে লিয়া স্টুয়ার্টকে। (ছবি: গোফান্ডমি)
তবে স্টুয়ার্টের প্রতি সহানুভূতিও প্রকাশ করেন ফেভোলা। তিনি বলেন, হাঙরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আসা স্টুয়ার্ট একজন অসাধারণ নারী।
রেডিও অনুষ্ঠানে স্টুয়ার্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই উপস্থাপকদের সমালোচনা করে বলেন, একজন ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে আসা নারীর অভিজ্ঞতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে তাঁর সাহস ও বেঁচে ফেরার ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
একজন শ্রোতা মন্তব্য করেন, স্টুয়ার্টের অসাধারণ বেঁচে ফেরার গল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উপস্থাপকরা সেটিকে খাটো করেছেন।

কুজি বিচে হাঙরের হামলার ঘটনা নিয়ে ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত কথা বলেছেন লিয়া স্টুয়ার্ট। (ছবি: নাইন)
আরেকজন বলেন, নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন নারীর সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত হয়নি।
এদিকে, রেডিও অনুষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সমালোচনার জবাবে স্টুয়ার্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসব মন্তব্যে নিজের মনোযোগ নষ্ট করতে চান না। তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুস্থ হয়ে ওঠা, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নতুন করে পাওয়া জীবনকে উপভোগ করা।
সূত্র- নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au