ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।…
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা অনেকের কাছেই সহজ নয়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী, বন্ধু কিংবা পরিচিত কাউকে তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন, উত্তর শুনে কী করবেন, কিংবা সমস্যার সমাধান দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে কি না, এসব ভাবনা থেকে অনেকেই কথোপকথন শুরু করতেই চান না।
তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউকে ‘তুমি কি ঠিক আছ?’ বা ‘তুমি কেমন আছ?’ জিজ্ঞেস করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক উত্তর দেওয়া নয়, বরং মন দিয়ে শোনা।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর ‘আর ইউ ওকে? ডে’ উপলক্ষে মানুষকে আশপাশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে উৎসাহিত করা হয়। কর্মক্ষেত্রেও এখন কর্মীদের মানসিক সুস্থতাকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে সহকর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত সংকট নিয়ে কথাবার্তা বাড়ছে।
কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে একটি ভুল প্রায়ই করেন মানুষ। কেউ নিজের সমস্যার কথা খুলে বললে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরামর্শ দেওয়া, সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করা কিংবা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় এসবের কোনোটিই প্রয়োজন হয় না। বরং প্রয়োজন মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পাশে থাকার বার্তা দেওয়া।
মনোবিজ্ঞানী স্যান্ডি রিয়া বলেন, ‘আর ইউ ওকে?’ প্রশ্নটি করতে ভয় পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, উত্তর শুনে কী করতে হবে সে বিষয়ে অনেকের আত্মবিশ্বাসের অভাব। অনেকেই মনে করেন, বিপর্যস্ত কোনো মানুষ নিজের কষ্টের কথা বললে তাকে সামলানোর মতো যথেষ্ট জ্ঞান বা দক্ষতা তাদের নেই।
কিন্তু তার মতে, একজন বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিচিত হিসেবে কাউকে সাহায্য করার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া প্রয়োজন নেই।
তার ভাষায়, আপনার কাজ হতে পারে শুধু একজন মনোযোগী শ্রোতা হওয়া। মানুষটিকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া, তার পাশে থাকা এবং তাকে বোঝানো যে সে একা নয়। সব প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা থাকতে হবে না।
কারও মধ্যে আত্মক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হলে তাকে একা না রেখে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, জরুরি সহায়তা নেওয়া কিংবা তার সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ নিজের ভেতরের কথা কাউকে বলতে পারছেন, এটিই অনেক সময় তার জন্য বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি করতে পারে।
আর ইউ ওকে? সংস্থার বোর্ড সদস্য ও প্রধান মনোবিজ্ঞানী অ্যান ফারডেল হার্টলিও বলছেন, কোনো সহকর্মীকে স্বাভাবিকের তুলনায় আলাদা মনে হলে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে তার খোঁজ নেওয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর ‘আর ইউ ওকে? ডে’ উপলক্ষে মানুষকে আশপাশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে উৎসাহিত করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
কেউ হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলে, অস্বাভাবিকভাবে বিরক্ত বা উত্তেজিত আচরণ করলে, আগের মতো কথা না বললে কিংবা তাকে নিজের মতো মনে না হলে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, সে কেমন আছে।
এ জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া কিংবা সব সমস্যার সমাধান জানা জরুরি নয়। বরং প্রশ্ন করতে হবে, মন দিয়ে শুনতে হবে এবং তাকে জানাতে হবে যে প্রয়োজন হলে পাশে থাকা যাবে।
সমস্যা শুনেই সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কেউ যখন নিজের কষ্টের কথা বলছেন, তখন অনেক সময় তিনি পরামর্শ নয়, বরং এমন একজন মানুষ খুঁজছেন যিনি তাকে বিচার না করে শুনবেন।
মনোবিজ্ঞানী জাহরা চিয়ার্দিও কথোপকথনের সময় বাধা না দিয়ে শোনার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, কথা বলার সময় ধীর হতে হবে, অন্য কাজ বন্ধ রাখতে হবে, মোবাইল ফোন সরিয়ে রাখতে হবে এবং পুরো মনোযোগ দিতে হবে।
কেউ নিজের সমস্যার কথা বললে আরও জানতে ‘এ বিষয়ে আমাকে আরও বলবে?’ কিংবা ‘কী ঘটছে, একটু বিস্তারিত বলবে?’ ধরনের প্রশ্ন করা যেতে পারে। এতে মানুষটি বুঝতে পারেন, তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে।
তবে নীরবতাকেও ভয় পাওয়া উচিত নয়। কেউ কথা বলতে গিয়ে থেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই নীরবতা ভাঙার প্রয়োজন নেই। কিছু সময়ের নীরবতাও মানুষকে নিরাপদ বোধ করাতে পারে এবং আরও কথা বলার সুযোগ দিতে পারে।
কেউ নিজের ব্যক্তিগত কষ্ট বা মানসিক সমস্যার কথা খুলে বললে তাকে ধন্যবাদ জানানোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজের দুর্বলতা বা কষ্টের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে অনেকেরই সাহস লাগে।
কথোপকথনের পরও যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। কয়েক দিন পর আবার তার খোঁজ নেওয়া যায়। তবে সেটি করার আগে তাকে জানিয়ে তার সম্মতিও নেওয়া ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আর ইউ ওকে?’ প্রশ্নটির লক্ষ্য কারও সমস্যা এক কথায় সমাধান করে দেওয়া নয়। বরং একজন মানুষের জীবনে এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে তিনি বিচার, সমালোচনা বা উপহাসের ভয় ছাড়াই নিজের কথা বলতে পারেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার জন্য এমন কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রতি পাঁচজন অস্ট্রেলীয়র মধ্যে প্রায় একজন যেকোনো একটি বছরে মানসিক সমস্যার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। ফলে একটি কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকও ব্যক্তিগতভাবে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।
এ কারণে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। তবে কেউ যদি কর্মক্ষেত্রে নিজের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে কর্মক্ষেত্রের বাইরে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সমস্যা গুরুতর সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই সাহায্য চাওয়া উচিত। কেউ কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে না পারলে চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সেবার দিকে নিয়ে যেতে পারেন।
এ বছর ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ‘আর ইউ ওকে? ডে’ পালিত হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির মূল বার্তাও হলো, মানুষের মানসিক সুস্থতার খোঁজ নেওয়া কোনো একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বছরের প্রতিটি দিনই কারও সঙ্গে কথা বলার, তার খোঁজ নেওয়ার এবং প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ সাধারণত দ্রুতগতির এবং চাপপূর্ণ। প্রতিদিনের কাজের মধ্যে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যা কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে কিংবা দলগতভাবে মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
এ কারণে সহকর্মীর সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, তার অবস্থা জানতে চাওয়া কিংবা শুধু মন দিয়ে শোনা অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জন জানিয়েছেন, কেউ তাদের ঠিক আছেন কি না জানতে চাইলে তারা কৃতজ্ঞতা, সমর্থন ও যত্ন পাওয়ার অনুভূতি পান। অর্থাৎ ‘তুমি ঠিক আছ?’ প্রশ্নটি শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অনেক গভীর হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
তবে ব্যবস্থাপক, দলনেতা ও প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আরও বেশি। কারণ তাদের আচরণই অনেক সময় একটি কর্মক্ষেত্রে মানসিকভাবে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে। কর্মীরা যেন ভয় বা সংকোচ ছাড়াই নিজেদের সমস্যা জানাতে পারেন এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাইতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত।
কেউ মানসিকভাবে সমস্যার মধ্যে আছেন কি না, তার কিছু পরিবর্তন আচরণেই দেখা যেতে পারে। কেউ হয়তো আগের তুলনায় বেশি একা থাকতে চাইছেন, অস্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত বা বিরক্ত হচ্ছেন, আচরণ বদলে গেছে কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই নিজের স্বাভাবিক ছন্দ থেকে সরে গেছেন।
এসব পরিবর্তন সবসময় মানসিক সমস্যার প্রমাণ নয়। তবে এমন কিছু চোখে পড়লে তার খোঁজ নেওয়া ক্ষতিকর নয়। বরং সেটিই হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের শুরু হতে পারে।
‘আর ইউ ওকে? ডে’ মানুষকে শুধু অন্যের দিকে তাকাতে নয়, নিজের দিকেও তাকাতে উৎসাহিত করে। নিজের মন কেমন আছে, দীর্ঘদিন ধরে চাপ বা উদ্বেগ অনুভূত হচ্ছে কি না, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে কি না কিংবা দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠছে কি না, সেসব বিষয়ও খেয়াল করা প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। মানুষ নিজেও বুঝতে পারেন না যে তার কিছু পরিবর্তন ঘটছে। আবার পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মীরাও অনেক সময় বিষয়টি লক্ষ্য করেন না। সমস্যা গুরুতর হওয়ার পর তখন সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের সহায়তার জন্য ‘মেডিকেয়ার মেন্টাল হেলথ চেক ইন’ নামে একটি অনলাইন সেবাও চালু হয়েছে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী মানুষ এ সেবার মাধ্যমে দৈনন্দিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও মন খারাপের মতো সমস্যার ক্ষেত্রে বিনা খরচে এবং গোপনীয় সহায়তা পেতে পারেন। এ সেবা ব্যবহারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
অনলাইনে বিভিন্ন ব্যবহারিক কৌশল ও সহায়ক উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে দূরবর্তী যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে। ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কিংবা মন খারাপের মতো বিষয় সামলানোর ক্ষেত্রেও এসব সহায়তা কাজে লাগতে পারে।
এ ছাড়া পরিবার, পরিচর্যাকারী কিংবা মানসিক সমস্যায় থাকা কোনো ব্যক্তিকে সহায়তা করতে চান এমন মানুষের জন্যও বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়ক উপকরণ রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন হেলথও এবারের ‘আর ইউ ওকে? ডে’ উপলক্ষে কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও মানসিক সুস্থতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করেছে। কর্মীদের জন্য সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ, মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য, সহকর্মী সহায়তা এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দলের ব্যবস্থাপকদেরও এমন কার্যক্রম আয়োজন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহমর্মিতা ও সহায়তার পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে দলীয়ভাবে নাশতা বা চা-আড্ডা, কাজের বিরতির সময় কয়েক মিনিটের মানসিক খোঁজ নেওয়া, একসঙ্গে হাঁটা, সহকর্মী সহায়তা ব্যবস্থা, কৃতজ্ঞতার দেয়াল কিংবা শান্তভাবে বিশ্রামের জায়গা তৈরির মতো উদ্যোগ রয়েছে।
নর্দার্ন হেলথের কর্মীদের অনেকেই বলেছেন, ‘আর ইউ ওকে? ডে’ তাদের কাছে শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়। এটি এমন একটি সংস্কৃতি তৈরির কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে একজন কর্মীকে শুধু তার পদ বা দায়িত্ব দিয়ে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পেশাগত স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগের পরিচালক ট্রেসি উইলি বলেন, ব্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ধরে রাখা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। কর্মীরা যেন নিজেদের কথা নিরাপদে বলতে পারেন, কঠিন সময়ে সহায়তা পান এবং নিজেদের যত্ন নেওয়া হচ্ছে বলে অনুভব করেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মী সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত লরি বেনেটের মতে, একজন মানুষকে ‘তুমি ঠিক আছ?’ জিজ্ঞেস করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে এই প্রশ্নটি করা স্বাভাবিক মনে হয়।
অর্থাৎ মানসিক সুস্থতার জন্য শুধু একটি বিশেষ দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে কারও খোঁজ নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের আচরণ, সহমর্মিতা এবং মনোযোগ দিয়েই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হয়।

‘আর ইউ ওকে?’ দিবস আজ। ছবিঃ সংগৃহীত
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি তাই খুব সাধারণ। কাউকে সাহায্য করার জন্য সব উত্তর জানা জরুরি নয়। সব সমস্যার সমাধানও আপনার হাতে থাকবে না। কিন্তু আপনি শুনতে পারেন, বিচার না করে পাশে থাকতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সহায়তার সঙ্গে তাকে যুক্ত করে দিতে পারেন।
কেউ যদি নিজের সমস্যার কথা বলতে শুরু করেন, তখন সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা। বরং তাকে সময় দিন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করুন। নীরবতাকে জায়গা দিন। আর তাকে জানান, তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে।
‘আর ইউ ওকে?’ তাই শুধু একটি প্রশ্ন নয়। এটি এমন একটি দরজা, যেখান থেকে একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ শুরু হতে পারে।
১০ সেপ্টেম্বরের এই বিশেষ দিনটি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আজ কেউ আপনার পাশে থাকা মানুষটির মতো স্বাভাবিক দেখালেও তার ভেতরে কী চলছে, তা আপনি জানেন না। আবার আপনার নিজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
তাই প্রশ্ন করুন। শুনুন। বিচার করবেন না। আর প্রয়োজন হলে সাহায্য নিতে উৎসাহ দিন।
কারণ কখনো কখনো কয়েক মিনিটের একটি আন্তরিক কথোপকথনও একজন মানুষের জন্য বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
কথোপকথন শুরু করবেন যেভাবে
‘আর ইউ ওকে?’ উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলার জন্য সহজ চার ধাপের একটি পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রথম ধাপ: জিজ্ঞেস করুন, ‘তুমি কি ঠিক আছ?’
উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ বেছে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন তিনি কেমন আছেন। তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করে থাকলে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চান। যেমন, আগের তুলনায় তাঁকে চুপচাপ বা মনমরা মনে হচ্ছে কি না, তা জানতে চাওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: মন দিয়ে শুনুন
তাঁকে নিজের কথা বলার জন্য যথেষ্ট সময় দিন। কথা বলার সময় বাধা দেবেন না, বিচার করবেন না এবং দ্রুত কোনো সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাঁর অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করুন
যদি বোঝা যায় যে ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরে সমস্যার মধ্যে আছেন, তাহলে তাঁর বিশ্বাসভাজন কারও সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দিতে পারেন।
চতুর্থ ধাপ: পরে আবার খোঁজ নিন
প্রথমবার কথা বলার পর বিষয়টি ভুলে যাবেন না। পরে একটি বার্তা পাঠানো, ফোন করা কিংবা আবার কথা বলার মাধ্যমে তাঁর খোঁজ নিতে পারেন। এতে বোঝা যায়, আপনার উদ্বেগ ও আগ্রহ ছিল আন্তরিক।
জিজ্ঞেস করা, মন দিয়ে শোনা, পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দেওয়া এবং পরে আবার খোঁজ নেওয়া, এই চারটি ধাপই ‘আর ইউ ওকে?’ উদ্যোগের মূল পদ্ধতি।
স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটির জন্য বিনামূল্যের সহায়ক উপকরণ
স্কুল, কর্মক্ষেত্র এবং বিভিন্ন কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য ‘আর ইউ ওকে?’ উদ্যোগের বিভিন্ন বিনামূল্যের উপকরণ রয়েছে।
কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে
‘আর ইউ ওকে?’ কোনো সংকটকালীন কাউন্সেলিং সেবা নয়। কেউ যদি তীব্র মানসিক সংকটে থাকেন বা আত্মহত্যার চিন্তা করেন, তাহলে তাঁর দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সহায়তা সেবা নিতে পারেন। লাইফলাইনে ১৩ ১১ ১৪, বিয়ন্ড ব্লুতে ১৩০০ ২২ ৪৬৩৬, সুইসাইড কল ব্যাক সার্ভিসে ১৩০০ ৬৫৯ ৪৬৭, কিডস হেল্পলাইনে ১৮০০ ৫৫ ১৮০০ এবং মেনসলাইন অস্ট্রেলিয়ায় ১৩০০ ৭৮ ৯৯ ৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। আদিবাসী ও টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর জন্য ১৩ইয়ার্ন সেবায় ১৩ ৯২ ৭৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
কারও জীবন তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে থাকলে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর ট্রিপল জিরো, অর্থাৎ ০০০-এ ফোন করতে হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au