গাজায় ইসরায়েলের হামলার তীব্রতার মধ্যেই ইউরোপ থেকে সুসংবাদ পেল কয়েক দশক ধরে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা চালানো নিপীড়িত ফিলিস্তিনিরা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ইউরোপের পরমাণু শক্তিধর ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন রাষ্ট্রটি ফ্রান্স। জুনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কনফারেন্সে ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফলাও করে এ খবর প্রচার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বুধবার (৯ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স-৫ টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই (ফিলিস্তিনকে) স্বীকৃতির দিকে যেতে হবে এবং এটি আমরা কয়েক মাসের মধ্যে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো জুনে সৌদি আরবের সঙ্গে জাতিসংঘের কনফারেন্সে নেতৃত্ব দেওয়া। যেখানে আমরা একাধিক পার্টির সঙ্গে ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব।’
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, ‘আমি এটি করব। কারণ আমি মনে করি একটি সময় এটি সঠিক হবে এবং আমি একটি যৌথ গতিশীলতাতে যুক্ত হতে চাই, যেটিতে যারা ফিলিস্তিনিকে সমর্থন করেন তারা এর বদলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবেন। যেটি তাদের অনেকেই করেন না।’
ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ান শাহিন। তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফিলিস্তিনকে ফ্রান্সের স্বীকৃতি ‘ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষা এবং দ্বিরাষ্ট্র নীতির দিকে একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে।’
ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে মতামত দিচ্ছে। তবে তারা বিষয়টিতে এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবেই সমর্থন জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় তাহলে এটি তাদের পররাষ্ট্র নীতির বড় পরিবর্তন হবে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্স ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দিলে ক্ষুব্ধ হতে পারে দখলদার ইসরায়েল।