ব্রাজিলের জার্সিতে আর ফিরবেন না নেইমার
ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের অধ্যায় শেষ। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলে আর না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড। এবার তাঁর সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত…
অস্ট্রেলিয়ার সাউথ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়াইয়ালা স্টিলওয়ার্কসের ব্লাস্ট ফার্নেস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কারখানাটির ৫০০ জনের বেশি কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
লোহা আকরিককে ইস্পাতে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এই ব্লাস্ট ফার্নেসটি আর মেরামত করে সচল করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওয়াইয়ালা স্টিলওয়ার্কসের কর্মীসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে কমে ১ হাজার ২০০-তে নেমে আসবে।
কোম্পানি কিছু কর্মীকে অন্য বিভাগে পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করবে এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগও দেওয়া হবে। তবে অনেক কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে ছাঁটাই করা হবে। সোমবার সকালে কর্মীদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্টিলওয়ার্কসটি বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এ ছাঁটাইয়ের ঘোষণা এলো। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াইয়ালা স্টিলওয়ার্কসের মালিক প্রতিষ্ঠান ওয়ানস্টিল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের স্বেচ্ছা প্রশাসক হিসেবে কোরডামেন্থাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কারখানাটি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ইস্পাত কোম্পানি জিন্দাল স্টিল এবং ব্রিসবেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এম রিসোর্সেস।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস ১০.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের একটি সহায়তা ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে এই প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে।
এই অর্থ থেকে কর্মীদের আর্থিক সহায়তা, কাউন্সেলিং, নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ, বিদ্যমান দক্ষতার পুনঃস্বীকৃতি এবং প্রয়োজন হলে ঠিকাদারদের সহায়তা দেওয়া হবে।
মালিনাউস্কাস বলেন, ওয়াইয়ালার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই উপায়ে শহরটিতে ইস্পাত উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাও বহাল রয়েছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, নতুন ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ওয়াইয়ালাকে দীর্ঘমেয়াদে ইস্পাত উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা এগিয়ে যাচ্ছে। ব্লাস্ট ফার্নেস বন্ধের সিদ্ধান্ত এতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
কারখানাটির ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হবে। বড়দিনের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রিমিয়ার।
তিনি আরও বলেন, কর্মীদের সব ধরনের পাওনা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
মালিনাউস্কাস জানান, ওয়াইয়ালা স্টিলওয়ার্কসের ব্লাস্ট ফার্নেসটি প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো। ১৯৬৫ সালে চালুর পর এটি অন্তত তিনবার বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্কার করা হয় ২০০৫ সালে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ব্লাস্ট ফার্নেসটি অত্যন্ত পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। ফলে একপর্যায়ে এর কার্যক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছানো অনিবার্য ছিল।
কোরডামেন্থার প্রশাসক সেবাস্তিয়ান হ্যামস বলেন, ব্লাস্ট ফার্নেসটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে টেকসই নয়। তাঁর ভাষায়, ফার্নেসটির পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়া ছিল অনিবার্য।
ব্লাস্ট ফার্নেস বন্ধের সিদ্ধান্তকে ৫০০ অস্ট্রেলীয় কর্মীর জন্য ‘নিষ্ঠুর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফেডারেল এমপি অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি।

কোরডামেন্থার প্রশাসক সেবাস্টিয়ান হ্যামস। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ওয়াইয়ালা শহরের জন্যও বড় ধাক্কা এবং অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতার জন্যও গুরুতর আঘাত। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার কাঠামোগত ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ বন্ধ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে ফেডারেল এমপি মার্ক বাটলার বলেন, ১৯৩০-এর দশকে ব্লাস্ট ফার্নেস স্থাপনের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই ওয়াইয়ালা স্টিলওয়ার্কস দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
তিনি বলেন, তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে কারখানাটি চালু রাখতে চান এবং ওয়াইয়ালার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রিমিয়ার মালিনাউস্কাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au