ফেসবুকে আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বললেই মিলবে না ভিসা। ছবিঃ প্রতিকী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টের ওপর নজরদারি করছে। কে কী পোস্ট করছেন, কার বিপক্ষে বা কার সমর্থনে পোস্ট করছেন সেদিকে চলবে এই নজরদারি। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা কর্মীরা।
আল-জাজিরা, রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ইহুদি বিদ্বেষমূলক বা যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় থাকা সন্ত্রাসী দলের সমর্থনে পোস্টের কারণে বাতিল হতে পারে আমেরিকার ভিসা ও গ্রিণ কার্ড।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইহুদি-বিরোধী কন্টেন্ট পোস্টকারীদের ভিসা এবং বসবাসের অনুমতি বাতিল করবে।
ইহুদি-বিরোধী বলে বিবেচিত পোস্টগুলিতে হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি-সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী হিসাবে অভিহিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ থেকে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইহুদি-বিরোধী কার্যকলাপ এবং তাদের শারীরিক হয়রানিকে অভিবাসন সুবিধার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে বিবেচনা শুরু করবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি সংস্থা USCIS এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ও অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রশাসনের সমালোচকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদনকারী তথ্য যাচাই করবে প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিট। বিশেষ এই ইউনিট ওই শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপরতা যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত মিললে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিট সাধারণত দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার শাখার অংশ, যা ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং করতে সহায়তা করে।