ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার…
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। পরে তাঁকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার জন্য তাঁর সাত স্বজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ সময় তাঁর একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর অভিযোগে করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগেও পুলিশ চেষ্টা করেছিল।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে রেনু মিয়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুলিয়ারচর থানার পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান। একপর্যায়ে বাড়ির ভেতর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেনু মিয়াকে আটক করার পর তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো হয়। পরে পুলিশ তাঁকে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে। এ সময় তাঁকে দেখতে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ লোকজন রেনু মিয়াকে ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ভিড় সরিয়ে তাঁকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যদের পথ আটকানোর চেষ্টা করেন এবং রেনু মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটিও হয়।
এর মধ্যেই সুযোগ পেয়ে রেনু মিয়া হাতকড়াসহ দৌড়ে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পুলিশ তাঁর পিছু নিলেও বাড়ির পেছনের দিকে গিয়ে তিনি দ্রুত চোখের আড়ালে চলে যান। পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও রাত পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর কয়েকজন নারী আত্মীয়সহ সাতজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তাঁদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেনু মিয়ার একটি মোটরসাইকেলও থানায় নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ওই সাতজনই কুলিয়ারচর থানায় ছিলেন। তাঁদের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন বলেন, রেনু মিয়ার সাত স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রেনুকে গ্রেপ্তার করা না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
তিনি বলেন, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর হাতকড়া উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর অভিযোগে করা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেনু মিয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা হলেও উপজেলা পর্যায়েও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি অনেকটা আড়ালে চলে যান। কয়েক দিন ধরে এলাকায় তাঁর অবস্থানের খবর পাওয়ার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এদিকে হাতকড়াসহ একজন আসামির পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ধরতে গিয়ে তাঁর সাত স্বজনকে থানায় নেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে রেনু মিয়াকে পালিয়ে যেতে তাঁর স্বজনেরা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করেছেন কি না, তা এখনো পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au