ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হামলায় বহু হুথি যোদ্ধা নিহত। ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের মারিব প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হামলার ভিডিও প্রকাশ করে সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, এতে বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বহু হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
একটি পোস্টে সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, মারিবে হুথিদের নয়টি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব গাড়িতে থাকা সব হুথি যোদ্ধাই নিহত হয়েছেন।
অন্য একটি পোস্টে বলা হয়েছে, মারিবের উত্তরাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন সৌদিকে সহায়তা করছে না?
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর আহ্বান জানান।
তবে ট্রাম্প সৌদির এই আহ্বানে সাড়া দেননি। প্রশ্ন উঠছে, কেন ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে সৌদিকে সরাসরি সহায়তা করছে না যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিমন মাবোন সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। আর ইরান হুথিদের অন্যতম প্রধান সমর্থক।
তার মতে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় আশা করেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘাতের অবসান হবে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও এর কোনো সমাধান হয়নি। বরং যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং সংঘাত কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন।
এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হলে তা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও মনে করেন অধ্যাপক মাবোন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নতুন করে আরেকটি সামরিক সংঘাতে জড়ালে সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল। ফলে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত তার সেই অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।
গত মাসে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। আগের মাসে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ। একই জরিপে ৮৩ শতাংশ মার্কিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধ্যাপক মাবোন বলেন, নভেম্বরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে আরেকটি ফ্রন্ট খোলা হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা সাধারণ মার্কিন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ
ইয়েমেনে আরেকটি সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গত জুলাইয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়টিও উঠে আসে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে কয়েক ডজন বিমানসহ সামরিক অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানো হলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা, ব্যয় এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা