সিলেকটিভ সিমপ্যাথি ও দ্বৈত মানদণ্ড: বিশ্বব্যাপী মানবতা কোন পথে?
অন্যায়, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাগ্রত বিবেকের তাড়নায় আপত্তি ও ভিন্নমত প্রকাশ করাই হলো প্রতিবাদ। কিন্তু সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে প্রতিবাদের সেই আদর্শিক রূপটি যেন…
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে, এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা থাকায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ৪১ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদ বা মুনাফা পাওয়া অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পরিমাণ তুলনামূলক কম। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন। বিশেষ করে আগামী অক্টোবরের বৈঠকে আবারও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তারা।
পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে আবার তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। এতে সুদের হার আরও বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে, যা স্বর্ণের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগামী মাসগুলোতে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমানে ফেডের নীতিগত সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে আরও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তার মতে, শক্তিশালী চাহিদার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার খবরে মঙ্গলবার তেলের দাম পাঁচটি সেশনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে।
মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কিছুটা কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৮৬ দশমিক ৪৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক developments-এর দিকে। এসব বিষয় আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au