ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার। ছবিঃ সংগৃহীত
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা ও ব্যাপক বন্দি পালানোর ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পরও শত শত পলাতক বন্দির সন্ধান মেলেনি। কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে এখনও ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের অবস্থান সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তথ্যই নেই।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগে মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও ৬৯০ জন রাষ্ট্রীয় হেফাজতের বাইরে রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৬ জনের অবস্থান শনাক্ত করার মতো কোনো তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।
আইজি প্রিজন্স বলেন, কারাগারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় ১৬৬ পলাতক বন্দির তথ্য বা অবস্থান শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। এসব বন্দির বিষয়ে তথ্য না থাকায় কারা কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তৈরি হওয়া একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এনেছে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কারাগারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে।
পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগার ভেঙে হাজার হাজার বন্দি কীভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, তা নিয়ে তখন ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে দুই বছরের বেশি সময় পরও শত শত বন্দি পলাতক থাকায় এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সক্ষমতা নিয়ে।
কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে পলাতক বন্দিদের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ পলাতক বন্দি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ও ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে হামলা চালানো হয়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন।
ওই সময় নরসিংদী কারাগার ও শেরপুর জেলা কারাগারে বড় ধরনের বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার এবং জামালপুর কারাগারেও হামলা ও বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে।
কারাগারগুলোতে হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অনেক নথি ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে পালিয়ে যাওয়া কিছু বন্দির পরিচয়, মামলা এবং পরবর্তী অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশ বন্দি রাষ্ট্রীয় হেফাজতের বাইরে থাকা এবং তাদের একটি অংশের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকা আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত এবং জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তথ্য পুনরুদ্ধার, নজরদারি ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।