চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়া পরানো অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ওই নেতাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার…
চুরি এখন আর শুধু ঘরবাড়ি কিংবা মূল্যবান ধাতুর জিনিসপত্রে সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানী ঢাকার একটি গির্জা থেকে প্রায় ৭০ কেজি ওজনের পিতলের ঘণ্টা চুরির ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, চুরির আগে গির্জার সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল। পরে পুলিশের তৎপরতার মুখে চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি ঘণ্টা চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৯২ আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের সামনে সেইন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চ। গত ১ অক্টোবর রাত ১২টা ৩ মিনিটের পর কোনো একসময় দোতলার ফাঁকা জায়গায় রাখা প্রায় ৭০ কেজি ওজনের পিতলের ঘণ্টাটি চুরি হয়। পুলিশ বলছে, চুরির আগেই গির্জার সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার পর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশের এই তৎপরতার মধ্যেই চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ২টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘণ্টাটি অক্ষত ছিল। বর্তমানে এটি মোহাম্মদপুর থানা হেফাজতে রয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. আবদুল হালিম জানিয়েছেন, রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে গির্জার সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং অপশন বন্ধ ছিল। কেন এবং কীভাবে সেটি বন্ধ হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এখানেই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—সিসিটিভি কি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে বন্ধ হয়েছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে কেউ সেটি বন্ধ করেছিল? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে চুরির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
আরেকটি বিষয়ও বিবেচনার দাবি রাখে। প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি ধাতব ঘণ্টা সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেটিকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া একেবারে সহজ কাজ নয়। এ কারণে চুরির ঘটনায় একজনের বদলে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।
এ ঘটনা উপাসনালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও সামনে এনেছে। মন্দির, গির্জা কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—এসব স্থান শুধু স্থাপনা নয়; মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এসব স্থানে চুরির ঘটনা সাধারণ অপরাধের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au