ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দেশটির বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায়…
নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া মিশন আচার্য অবশেষে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁর নিয়োগের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে মিশন আচার্যকে বিষয়টি জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, মিশনকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি তাঁর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি দেখার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর মিশন আচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে।
রাশেদ খাঁন জানান, আগামী রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁর নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, চাকরির আবেদন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করা হয়। অনেক সময় কেউ ঠিকানা গোপন করে চাকরি নেন, পরে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণেই নিয়োগের আগে প্রার্থীদের ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। মিশন আচার্যের ক্ষেত্রেও যাচাই করতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁদের নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি নেই। তাঁর মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। আর্থিক ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
পরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চাকরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। একই পদে তাঁর সঙ্গে আরও ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
তবে মিশন আচার্যের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁর নিয়োগপত্র আটকে যায়। ফলে অন্যদের সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি তিনি।
নিজের ভিটেবাড়ি না থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই তাঁর নিয়োগের বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশেদ খাঁন জানান, মিশন আচার্যের সঙ্গে ইতিমধ্যে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁকে ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। রোববার তাঁকে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চাকরি পাওয়ার খবর পেয়ে মিশন আচার্যও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাশেদ খাঁন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে ঢাকায় যেতে বলেছেন। মন্ত্রণালয়ে নিয়ে গিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন।
চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত মিশন আচার্য সংবাদপত্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনের সবচেয়ে বিপদের সময় সংবাদপত্র তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর চাকরির বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্যও সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ।
মিশন আচার্যের ঘটনায় চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে আর্থিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকা একজন যোগ্য প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার পথে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষা। রোববারের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের পর তাঁর চাকরিতে যোগদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au