বাংলাদেশ ও আয়াল্যান্ডের পতাকা।
আয়ারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ডাবলিনে নতুন এই দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে দূতাবাস প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ডাবলিনের বলসব্রিজের কূটনৈতিক এলাকায় আলেকজান্দ্রা হাউসে একটি অস্থায়ী চ্যান্সেরি অফিস থেকে দূতাবাসের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের মনোনীত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ নূরে আলম ইতোমধ্যে মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি যথাসময়ে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দূতাবাস প্রতিষ্ঠার ফলে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী ও নিবেদিত কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।
আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেবে নতুন দূতাবাস। বর্তমানে দেশটিতে আনুমানিক ২৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন ও কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করাও দূতাবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে।
তবে দূতাবাস চালুর প্রথম দিনেই সব ধরনের কনস্যুলার সেবা শুরু হচ্ছে না। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চলছে। এসব সেবা কবে থেকে শুরু হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যথাসময়ে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, আয়ারল্যান্ডে আবাসিক দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ও সেবা কার্যক্রম আরও সহজ হবে।