টানা সাত মাস কমল অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম
ওটিএন বাংলা, মেলবোর্ন: অস্ট্রেলিয়ার আবাসনবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরে জাতীয় পর্যায়ে আবাসিক সম্পত্তির মূল্য আরও ১.২ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা সাত মাস দাম কমল।…
ওটিএন বাংলা: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫২৯টি কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। রবিবার, ১ নভেম্বর এসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং সাভার–আশুলিয়া অঞ্চলে মোট ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই সংখ্যা স্থায়ী চাকরি হারানোর হিসাব নয়; সংশ্লিষ্ট দিনে কারখানার কার্যক্রমে বিঘ্নের চিত্র তুলে ধরে।
শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুর, সাভার–আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। মিরপুর–১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।
বিজিএমইএর হিসাবে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ২৭৬টি, সাভার–আশুলিয়া–জিরানি এলাকায় ১৮৫টি এবং মিরপুরে ৬৮টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের অন্তর্ভুক্ত কারখানাগুলোতে অনুরূপ বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য গঠিত ছয় সদস্যের বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি, সরকারের একজন প্রতিনিধি এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্য রয়েছেন। বোর্ড পোশাক খাতের মজুরি পর্যালোচনা করে সংশোধিত বেতনহার সুপারিশ করবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার পর বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি চালান ও বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে।
কারখানামালিকেরা আশঙ্কা করছেন, চলমান অস্থিরতা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রতিযোগী দেশে ক্রয়াদেশ চলে যেতে পারে। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে শিল্পমালিকদের সংগঠনগুলো।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির দাবি সমাধানের পাশাপাশি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au