গ্রেফতার অমিত রায় শুভ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের হিন্দু যুবক অমিত রায় শুভকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ ওঠা এবং তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত বক্তব্যের প্রকৃত উৎস, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নীলফামারী সদর এলাকা থেকে অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাঁকে গ্রেপ্তারে টানা তিন দিন তিন রাত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। পরে তাঁকে লালমনিরহাট সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।
অমিত রায় শুভ মোগলহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলগাছ গ্রামের পরেশ রায়ের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অমিতের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুলগাছ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফুলগাছ বাজার এলাকায় স্থানীয় তৌহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে অমিতকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এরপর লালমনিরহাট সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। মামলার পর অমিতকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর নীলফামারী সদর এলাকায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর অমিতকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অমিত রায় শুভর বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত বক্তব্যের প্রকৃত উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ, কেবল অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করেই আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অমিত রায় শুভকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।