অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেতে যাচাই হবে আবেদনকারীর অনলাইন আচরণও
অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের ক্ষেত্রে আবেদনকারী কিংবা ভিসাধারীর চরিত্র মূল্যায়নের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অতীত ও বর্তমান আচরণের…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় সাফল্যের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দলটি। নির্বাচনের ফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। অন্যদিকে, নির্বাচনে নিজ দলের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোটের ঢেউ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে। তবে শুরুতে এপির বরাতে শুধু প্রতিনিধি পরিষদে দলটির জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেদনে তথ্যগত অসংগতি রয়েছে।
আলাবামার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী টমি টিউবারভিল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডগ জোনসকে পরাজিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারানোর দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ধারাবাহিক সাফল্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তারা এমন রাজনীতি চায়, যা মানুষকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করে। পাশাপাশি তারা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, যারা মানুষের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারবে।
ওবামা বলেন, যেসব নির্বাচনী এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের জন্য জয়ের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচনা করা হতো, সেসব জায়গাতেও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে এখনো দুই বছর বাকি রয়েছে। এই সময়ে ডেমোক্র্যাটদের দায়িত্ব হবে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, আরও ক্ষতি ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে সম্প্রচারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে চ্যানেলটির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ডি ব্লাসিওকে নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মেয়র বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ডেমোক্র্যাটদের বিরোধী পক্ষকে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে সম্প্রচারে সুযোগ দেওয়ার কারণে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দায় ফক্স নিউজেরও রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কটাক্ষ করতে তিনি নিজের ব্যবহৃত অবমাননাকর শব্দ ‘ডুমোক্র্যাট’ ব্যবহার করেন।
তবে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ডেমোক্র্যাটরা ভালো করেছে। সত্যিই তাই। তারা ভালো কাজ করেছে। তারা কঠোর লড়াই করেছে।”
নির্বাচনের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশেষ রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে দলের পরাজয়ের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করা উচিত নয় বলেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করেছেন তিনি। কলিন্স পরাজয় মেনে নেওয়ার পর সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন জ্যাকসন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন জনসভায় মানুষের আর্থিক সংকট ও জীবনযাপনের কষ্টের কথা শুনেছেন। অনেকেই তাঁদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
জ্যাকসনের ভাষায়, “আমি এমন জনসভায় গিয়েছি, যেখানে মানুষ কথা বলার পর কাঁদছিল। তারা কেন কাঁদছিল, তা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। তারা ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় বড়ি অর্ধেক করে খাওয়ার কথা বলেছে। এমনকি ওষুধ কেনার সামর্থ্য থাকলেও তা নিয়ে সংকটে পড়তে হয়েছে। ঘর গরম রাখার বিল হাতে নিয়ে তারা ভাবছিল, আর কোন খরচ কমানো যায়।”
তিনি বলেন, ভোটাররা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান। তাঁর ভাষায়, “আপনারা আমাকে আমাদের সবার জন্য কিছু করার ক্ষমতা দিয়েছেন। এই ক্ষমতা ব্যবহারের একটিই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, আর তা হলো মানুষের জীবনকে আরও ভালো করা।”
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর দলটির নেতা হাকিম জেফরিস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “আমেরিকা এখনো প্রাণবন্ত এবং সুস্থ আছে।”
অন্য একটি পোস্টে জেফরিস বলেন, সারা দেশে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের কৌশল ডেমোক্র্যাটরা পরাস্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী এলাকার সীমানা এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হলে, যাতে কোনো একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পায়, তাকে ‘জেরিম্যান্ডারিং’ বলা হয়। জেফরিসের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা এ ধরনের কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে ইরান যুদ্ধের একটি ভূমিকা থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে একই সময়ে মানুষ ইরানের বিষয়ে আমি যা করেছি, তার গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।”
তাঁর ধারণা, ভোটাররা জ্বালানির দামের স্বল্পমেয়াদি প্রভাব মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে নির্বাচনের ফলাফলের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রো খান্না।
ইসরায়েল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অন্যতম সোচ্চার সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি। ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন খান্না। একই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধেও নতুন করে সামরিক অর্থায়ন বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ছবিঃ সংগৃহীত
টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো বলেছেন, সাধারণ মানুষের শক্তিতেই তাঁরা বড় রাজনৈতিক ও আর্থিক শক্তিকে পরাজিত করেছেন।
অস্টিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, “টেক্সাসের মানুষই ছিল আমার গুলতি। আর আজ রাতে আমরা গোলিয়াথকে পরাজিত করেছি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে তিন দশকেরও বেশি সময় পর ডেমোক্র্যাটদের এই জয় এসেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন ছিল। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাক্সটন বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগের মুখে ছিলেন। তাঁর বিপরীতে রিপাবলিকান দলের বর্তমান সিনেটর জন করনিনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
এই নির্বাচনে প্রচার ব্যয়ের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যয়ের বড় অংশ এসেছে ধনকুবের ইলন মাস্কের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের সমর্থনে মাস্ক অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তালারিকো বলেন, “ধর্মগ্রন্থ আমাকে শিখিয়েছে, আমার নিজের জীবনও আমাকে শিখিয়েছে, সব সময় পিছিয়ে থাকা বা কম সম্ভাবনাময় প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর আস্থা রাখতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তারা অসৎ কৌশল নিয়েছিল, কারণ তারা মরিয়া হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমরা কখনো আশা হারাইনি, বিশ্বাস হারাইনি।”
নির্বাচনী প্রচারে তালারিকো নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বড় অর্থনৈতিক শক্তির প্রভাব, রাজনৈতিক বিভাজন এবং ঘৃণার রাজনীতির সমালোচনা গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণকারী ধনকুবেরেরা মানুষের মধ্যে অপমান ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে লাভবান হন। এই ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতির অবসান চান তিনি। তাঁর প্রচারের মূল বার্তা ছিল ভালোবাসা ও ঐক্যের রাজনীতি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রশাসনের বিভিন্ন আইন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও বাড়বে।
নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাজনৈতিক বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ও ঘৃণার রাজনীতির বিরোধিতা গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষ রিপাবলিকানদের ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে দলটির নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au