পাকিস্তানে ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাডে আটকে যায় এই পরিবার, যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
মেলবোর্ন, ২৯ জুন— পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সোয়াত নদীতে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জনই শিশু।
এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একটি পর্যটক পরিবারও আছে, যারা বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন।
সোয়াত নদীতে পানির মধ্যে একটি ছোট শুকনো জায়গায় আটকে থাকা সেই পরিবারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, নদীর স্রোত পরিবারটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পরিবারটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিল। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাদেশিক সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক ক্ষমতায় রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের জানান, বন্যার সময় পাঞ্জাবের ওই পরিবারটি নদীর ধারে পিকনিক করছিল। বাচ্চারা ছবি তুলছিল। তখন পরিবারটি তাদের উদ্ধার করতে নদীতে নামে। পরিবারটির নয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার পাকিস্তান বিশ্বে জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ২০২২ সালে জলবায়ুজনিত আকস্মিক বন্যায় অন্তত এক হাজার ৭০০ জন নিহত এবং তিন কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনার পর জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা, পর্যটকদের সতর্কতা অমান্য করা এবং স্থানীয় সরকারের দুর্নীতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের সাবেক জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শেরি রেহমান বলেন, পাকিস্তানে পর্যটকরা এখন আর উপনিবেশিক যুগের ধারা অনুযায়ী জারি করা ১৪৪ ধারা মানেন না। তারা চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও গুরুত্ব দেন না।
রেহমান সরকারের দুর্বল সংকেত, সমন্বয়ের অভাব এবং পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার সমালোচনা করে বলেন, “এই ঘটনায় উচিত ছিল হেলিকপ্টার পাঠানো, যাতে আটকে পড়া পরিবারকে সময়মতো উদ্ধার করা যেত। এটা ছিল চরম অবহেলা।”
অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী সরকারের সমালোচনা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিবারটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে ছিল, অথচ কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি।
২০০৫ সালে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। তাদের দায়িত্ব হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া। তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের এই দুর্যোগ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।