সিন্ধু পানি বন্টন চুক্তি থেকে একতরফা ভারতের বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত।
মেলবোর্ন, ২৯ জুন—সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি থেকে ভারতের একতরফা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পাকিস্তানের দায়ের করা মামলায় হেগের আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিশি আদালত পিসিএ শুক্রবার পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়েছে। ইসলামাবাদ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি এক বিবৃতিতে পাকিস্তান দাবি করেছে- এই সিদ্ধান্ত ভারতকে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার অধিকার থেকে যৌক্তিকভাবে বঞ্চিত করেছে।”
সালিশি আদালত পিসিএ’র প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “চুক্তির কোনো ধারায় একতরফাভাবে ‘স্থগিত রাখা’ বা ‘বাতিল করার’ সুযোগ নেই। বরং স্পষ্ট বলা আছে, ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্মতিতেই চুক্তির অবসান ঘটানো সম্ভব।”
আদালত আরও বলেছে, “চুক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী, কোনো পক্ষ একতরফাভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে স্থগিত রাখতে পারে না।”
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “পাকিস্তান আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছে। যে রায় নিশ্চিত করেছে যে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি বন্টন চুক্তি স্থগিত করার অধিকার রাখে না। আমরা এখন আদালতের মূল রায় প্রত্যাশা করছি।”
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “পাকিস্তান সব মুলতুবি বিষয়, যার মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর, পানি, বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদ অন্তর্ভুক্ত, তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপে প্রস্তুত।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই রায়কে ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ভারত কখনোই এই তথাকথিত সালিশি আদালতকে আইনত স্বীকৃতি দেয়নি। এই সালিশি আদালতের গঠন নিজেই চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। ফলে এর যে কোনো রায় বা সিদ্ধান্ত আইনত অবৈধ ও বাতিল।”
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পাহালগামে সংঘটিত হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পরে তারা ‘আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সার্বভৌম অধিকারে’ সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিন্ধু পানি চুক্তি ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক জলবণ্টন চুক্তি, যা আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে গঠিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ নদীর প্রবাহের ভিত্তিতে পানি ব্যবহার করে থাকে এবং কোনো একতরফা স্থগিতাদেশ বা হস্তক্ষেপের অনুমতি নেই।
এই রায় আন্তর্জাতিকভাবে এমন একটি সময় এলো, যখন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।