পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ধ্বংস করতে বুলডোজার ব্যবহার করছে ইসরায়েল।
মেলবোর্ন, ৩০ জুন— রাচলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনারা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে এক হাজারে বেশি বাড়ি ধ্বংস করেছে। এসময়ের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৫৫ জনকে।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ মূলত পশ্চিম তীরের তিনটি উত্তরাঞ্চলীয় শরণার্থী শিবিরে—জেনিন, তুলকারেম এবং নূর শামসে চালানো হয়েছে। শুধু জেনিন শিবিরেই ৬০০-র বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। অনেক বাড়িঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ফিলিস্তিনের গণমাধ্যমগুলো এই হামলাকে ১৫৯ দিনের সামরিক অভিযানের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, রাস্তা ভেঙে ফেলা এবং আবাসিক ভবনকে সেনা চৌকিতে পরিণত করার মতো কর্মকাণ্ডও চালিয়েছে ইসরায়েলের সেনারা।
এই অভিযানের শুরু থেকে জেনিনে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে বহু মানুষ। এছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
তুলকারেম মিডিয়া কমিটির আলাদা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বুলডোজার তুলকারেম ও নূর শামস শিবিরে ৪০০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে। এছাড়া আরও আড়াই হাজারের বেশি বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনাবাহিনী আরও ১০৬টি ভবন ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে, যা ২৫০টিরও বেশি আবাসিক ইউনিটকে প্রভাবিত করবে।
এই দুই শিবিরে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে এক সন্তানসম্ভবাসহ দুই নারী ও এক শিশুও ছিল।
স্থানীয় সংগঠনগুলোর জানিয়েছে, প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দা শিবিরগুলো ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এসব এলাকায় মানবিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ইসরায়েলি বাহিনী শিবিরগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখেছে। ফলে সেগুলো এখন কার্যত ‘প্রায় মৃত এলাকায়’ পরিণত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৯৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন সাত হাজারের বেশি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রায় দেয় যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল বেআইনি। আদালত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে সব বসতি সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেয়।