‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার উপাচার্যের উপস্থিতিতেই ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
সেদিন (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতির সাক্ষাৎকার। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কয়েকটি সংগঠন—ইসলামী ছাত্র শিবির, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চ—সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এবং পদোন্নতি বাতিলের দাবি তোলে। বেলা ১২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে জড়ো হয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকে, পরে উপাচার্যের সাথেও দেখা করে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, সকাল থেকেই পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। এ সময় কুশল বরণ চক্রবর্তী উপাচার্যের রুমে ঢুকতেই হট্টগোল শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের একটি দল তাকে ঘিরে চিৎকার করছে, তর্ক করছে এবং “আপনি নিজ যোগ্যতায় বসেননি, আপনাকে আমরা বসিয়েছি, আপনাকে আমাদের কথা শুনতে হবে” বলে দাবি করছে। সেই সময় উপাচার্য ও অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
কুশল বরণ চক্রবর্তীর দাবি, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলার কথা বলে ছাত্রদের উত্তেজিত করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আলিফ হত্যার দিন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম না, ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছিলাম।”
জানা গেছে, চট্টগ্রামের আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় কুশল বরণ চক্রবর্তী ২০ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন, তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।
তিনি আরও বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে আমার পদোন্নতির প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। শুক্রবারও প্রায় দুই ঘণ্টা রেজিস্ট্রার ভবনের বাইরে অপেক্ষা করেছি। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে উপাচার্যের রুমে না ঢুকলে অনুপস্থিতির কারণে আমার সাক্ষাৎকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেত।” ঘটনার পরে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ মনে করেন, কুশল বরণ চক্রবর্তী অনুমতি না নিয়ে উপাচার্যের রুমে ঢুকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছেন। “ছাত্ররা যখন উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলছিল, তখন তিনি হঠাৎ ঢুকে যান, এতে হট্টগোল শুরু হয়,” বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বিবিসি বাংলাকে জানান, “তার বিরুদ্ধে মামলা আছে তা আগে জানা ছিল না। ছাত্রদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে তার নাম বোর্ড থেকে প্রত্যাহার করেছি। তবে বাকি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার হয়েছে।”
কুশল বরণ চক্রবর্তী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত নন, তবে তিনি হিন্দু অধিকার বিষয়ক কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার কারণে তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অভ্যুত্থানের আগে কুশল বরণ চক্রবর্তী ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন, তাই তার পদোন্নতির বোর্ড বাতিলের দাবি জানাই।”
বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান লিটন মিত্র বলেছেন, “পদোন্নতি পাওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা পূরণ করেই তার নাম প্ল্যানিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আশা করি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে।”
ঘটনার পর কুশল বরণ চক্রবর্তীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা জোরদার হয়েছে। কেউ কেউ ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তোলা তার ছবি শেয়ার করে সমালোচনা করছেন। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নই, বরং কয়েকটি একাডেমিক ছবিকে অপপ্রচারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান লিটন মিত্র।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “পদোন্নতি পাওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা ফুলফিল করে বলেই কুশল বরণ চক্রবর্তীর নাম প্ল্যানিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু সমাধান হবে বলেই আশা করি।”
এদিকে এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যমে। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তোলা তার কয়েকটি ছবি দিয়ে পোস্টও দিয়েছেন কেউ কেউ।
যদিও মি. চক্রবর্তী বলছেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও দেশ বিরোধী কোনো কাজে যুক্ত নন। তার দাবি, “অ্যাকাডেমিক কয়েকটি ছবি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au