চারদিকে যেন নীরবতা ও ভয়ের ছায়া। ছবি; সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার পর বুধবার রাতভর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘুরে দেখা যায়, পুরো শহর একপ্রকার ফাঁকা। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটে নেই যানবাহন বা মানুষের চলাচল। শুধু শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল, পোড়া টায়ারের মতো সংঘর্ষের চিহ্ন।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে গাছের গুঁড়ি, বাঁশ ও ইট ফেলে বাধা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা গেছে আগুনের ধোঁয়া। চারদিকে যেন নীরবতা ও ভয়ের ছায়া।
সন্ধ্যার পর শহরের প্রতিটি মসজিদের মাইকে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা প্রচার করা হয়। বলা হয়, কেউ যেন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শহরে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহলদল।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যারা সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তারা অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, হাসপাতালে থাকলে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে।
শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ডরাও নিজ নিজ ভবনের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিকাল পৌনে ৩টার দিকে শহরের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ শেষ হতেই লাঠিসোঁটা হাতে একদল ব্যক্তি চারদিক থেকে নেতাকর্মীদের ঘিরে ফেলে এবং হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে সরে পড়েন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল সব ঠিক আছে। কিন্তু সমাবেশে এসে দেখি উল্টো চিত্র।” তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেন এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন।
এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জের খাটিয়াগড় চরপাড়া এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ইউএনও এম রাকিবুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ফেরার পথে তাঁর গাড়িতেও হামলা হয়। এতে চালক মোহাম্মদ হামিম আহত হন।
গোপালগঞ্জের এই সহিংসতার পেছনে রয়েছে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি, যা ১ জুলাই শুরু হয়ে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ছিল ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’। দিনভর সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতার পর রাতে শহরের চিত্র পাল্টে যায় সম্পূর্ণ। জনমানবশূন্য শহরে শুধুই ছিল আতঙ্কের নিঃশব্দ উপস্থিতি।