কুমিল্লায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী, গ্রেপ্তার ২
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নেমেছে। বুধবার…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- বাংলাদশের রাজশাহী মহানগরীর রাজনৈতিক অঙ্গন তোলপাড় হয়ে উঠেছে একটি বিতর্কিত ‘চাঁদাবাজদের তালিকা’ ঘিরে। সম্প্রতি প্রচার হওয়া এই তালিকায় মোট ১২৩ জনের নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ৪৪ জন, আওয়ামী লীগের ২৫ জন এবং জামায়াতের ৬ জনের নাম পাওয়া গেছে। বাকি নামগুলোর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে তাদের ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা ১৮ জনের নাম রয়েছে একটি চাঁদাবাজির মামলায়, যা এক আবাসন ব্যবসায়ী দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রতিবাদে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এই তালিকা আসলে কার তৈরি, তা নিশ্চিত নয়। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, এটি পুলিশের তৈরি তালিকা এবং তাতে পুলিশের স্বাক্ষর রয়েছে। যদিও জনসাধারণের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো তালিকাটিতে কোনো স্বাক্ষর দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, পুলিশ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তালিকা তৈরি করে থাকে। তিনি এই তালিকা দেখেননি, তবে তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা যদি প্রকৃতই চাঁদাবাজ হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মত দেন। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জনগণের স্বার্থেই অপরাধীদের তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।
তালিকায় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। ফুটপাত, কোচিং সেন্টার, এমনকি সাইকেল গ্যারেজ ঘিরেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, মিডিয়া কর্মীদের হুমকি, উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা ও মাদক কারবারের অভিযোগও আছে।
তালিকায় এমন এক ব্যক্তির নামও আছে, যিনি একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁর বিরুদ্ধে গভীর রাতে চাঁদাবাজি ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, তালিকাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তার মতে, কিছু ব্যক্তি হয়তো জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু সবাইকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা ঠিক নয়। বরং যারা ৫ আগস্টের ঘটনার পর মামলা দিয়েছে এবং শত শত লোককে আসামি করেছে, তাদেরই চাঁদাবাজ হিসেবে দেখা দরকার।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডল জানান, তালিকায় থাকা জামায়াত সংশ্লিষ্ট সবাইকে দল থেকে বয়কট করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এদের কাছ ঘেঁষাও যাবে না। তবে তারা সুযোগ পেলেই ছবি তুলে প্রচার চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই তালিকা রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। তালিকাটির সত্যতা, উদ্দেশ্য এবং এর ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে এখনো বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au