কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবিঃ এএফপি
মেলবোর্ন, ১ আগষ্ট- ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পথ অনুসরণ করে এবার ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে এই স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কানাডা। এই ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ এর মধ্যে কানাডা হতে যাচ্ছে তৃতীয় দেশ যারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নতুন মোড় নিতে পারে।
ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ওয়াও! কানাডা এইমাত্র পৃথক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণার প্রতি সমর্থনের ঘোষণা দিল। এর ফলে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।”
ইসরায়েলও কানাডার এই ঘোষণাকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছে। অটোয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একটি দায়বদ্ধ সরকার, কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো বা নেতৃত্ব ছাড়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অমানবিক হামলার বৈধতা দেওয়া এবং তাদের পুরস্কৃত করার সামিল।”
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি অবশ্য জানিয়েছেন, তার দেশ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে বিশ্বাস রাখে এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “গাজার বেসামরিক মানুষদের ওপর চলমান সংকট এবং মানবিক বিপর্যয় আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট। তাই শান্তির পক্ষে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে আর দেরি করার সুযোগ নেই।”
কার্নি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে, যা একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তাদের এই প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রমের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে কানাডা এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তিনি বলেন, “যদিও এখনও জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে, তবে আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসার সম্ভাবনা আমার কল্পনার বাইরে।”
এই স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) বর্তমানে পশ্চিম তীরের কিছু অংশে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে এবং ২০২৬ সালে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেছে। কার্নি জানিয়েছেন, সেই নির্বাচনে হামাস অংশ নিতে পারবে না এবং স্বীকৃত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অবশ্যই বেসামরিকীকরণ করতে হবে।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কানাডার ঘোষণাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং কানাডাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে নিপীড়িত ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স