আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন ৪ সেপ্টেম্বর- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলো চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আয়োজিত এই মহাসমাবেশে চীন তাদের সামরিক শক্তির বহুমাত্রিক চিত্র তুলে ধরে। পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে হাইপারসনিক অস্ত্র, পানির নিচে চালিত ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত কুকুরসদৃশ রোবট এবং উন্নত যুদ্ধ ট্যাঙ্ক—সব মিলিয়ে এই কুচকাওয়াজ শুধু প্রদর্শনী নয়, বরং এক ধরনের কৌশলগত বার্তা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে একাধিক পক্ষকে বার্তা দিয়েছেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে ক্ষমতার সংকেত। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী ভারত ও রাশিয়ার উদ্দেশে চীনের সামরিক সক্ষমতার ঘোষণা। আর তৃতীয়ত, সম্ভাব্য অস্ত্র ক্রেতাদের দেখানো হয়েছে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল বলেন, “এসব অস্ত্র কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মূলত চীন দেখাতে চেয়েছে যে তারা সামরিক ও প্রযুক্তির সব দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য তাদের পরিকল্পনা জটিল হয়ে পড়বে।”
এই কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চীনের পূর্ণ পারমাণবিক ট্রায়াড—যার মাধ্যমে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে একযোগে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব। এর মধ্যে ছিল:

চীন এবার প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক ড্রোন ও টর্পেডো আকৃতির পানির নিচে চালিত অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। বিশ্লেষক জেমস চর মনে করেন, এ ধরনের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পূর্ব এশিয়ায় প্রবেশ প্রায় অসম্ভব করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, “ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে এমন ঘেরাটোপ তৈরি হবে, যেখানে বাইরের নৌবাহিনী ঢুকতেই পারবে না।”
তাছাড়া প্রদর্শিত হাইপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ওয়াইজে–২০ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হলো নতুন যুদ্ধট্যাঙ্ক টাইপ–১০০, যেখানে ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও তথ্য–সহায়তা প্রযুক্তি একত্রিত করা হয়েছে। এছাড়া কুচকাওয়াজে উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে কুকুরের মতো দেখতে রোবট—যা মূলত প্রদর্শনীর অংশ হলেও ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি বা আক্রমণে ব্যবহৃত হতে পারে।
চীন তাদের নবগঠিত মহাকাশ, সাইবার ও তথ্য–সহায়তা ইউনিটও প্রদর্শন করে। এতে বোঝা যায়, চীন শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তিই নয়, বরং মহাকাশযুদ্ধ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রস্তুত।
তবে তাইপে-ভিত্তিক গবেষক চিয়েহ চুং বলেন, “চীন দাবি করছে এসব অস্ত্র পুরোপুরি কার্যকর। কিন্তু বাস্তবে অনেক অস্ত্র হয়তো এখনো সীমিতভাবে মোতায়েন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং সাধারণ উৎপাদনে আসেনি।”
এই কুচকাওয়াজে চীনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল প্রতীকীভাবে পশ্চিমা বিশ্বকে বার্তা দেওয়ার একটি মঞ্চ।
আলেকজান্ডার নিলের ভাষায়, “পশ্চিমা সেনারা এখনো কার্যকারিতার দিক থেকে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে চীন দ্রুত সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দিচ্ছে—এটি স্পষ্ট।”
বেইজিংয়ের এই কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের অবস্থান পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পারমাণবিক ট্রায়াড থেকে শুরু করে সমুদ্র-ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চালিত রোবট—সব মিলিয়ে চীন ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের এক নতুন অধ্যায়ের ঘোষণা দিয়েছে।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au