মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) তিনি এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর পরপরই পেন্টাগনের সদর দপ্তর ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে সাইনবোর্ড ও আনুষ্ঠানিক নথিপত্রে নতুন নাম ব্যবহার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদবিকে ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ এবং তার ডেপুটি স্টিভ ফেইনবার্গের পদবিকে ‘উপ-যুদ্ধমন্ত্রী’ করা হয়েছে।
ওভাল অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এটি সামরিক বিজয়ের নতুন যুগের সূচনা করবে।” তার দাবি, নাম পরিবর্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে আরও বড় ধরনের সংস্কারের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল ‘যুদ্ধ বিভাগ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে একীভূত করে এর নাম হয় ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ’। ইতিহাসবিদদের মতে, পারমাণবিক যুগে সংঘাত প্রতিরোধের কৌশলকে প্রতিফলিত করতেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও নতুন পদবিধারী যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “আমরা কেবল প্রতিরক্ষার জন্য নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক উদ্যোগেও যাব।”
তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই নাম পরিবর্তন ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয়। শুধু পেন্টাগনের সদর দপ্তর নয়, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো, অফিসিয়াল লেটারহেড ও প্রতীক পরিবর্তনে কোটি কোটি ডলার খরচ হতে পারে।
এ ছাড়া নাম পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই এই ঘোষণার আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা বাস্তবে বিভ্রান্তি ও অযথা ব্যয় বাড়াবে।
সুত্রঃ রয়টার্স