ভারতের পর্যটক ভিসা চালু হতেই বাংলাদেশজুড়ে আবেদনকারীদের ঢল কেন
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত পর্যটক ভিসা চালু করার পর দেশজুড়ে ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রগুলোতে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড়…
মেলবোর্ন, ১০ সেপ্টেম্বর- নেপালে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে অবশেষে সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেলে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সেনারা রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।
নেপালের প্রতিরক্ষা জনসংযোগ অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু গোষ্ঠী অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি করছে। সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তারা অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পূর্ণভাবে মোতায়েন হবে। পাশাপাশি মোতায়েন শুরু হলে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। সেনাবাহিনী নাগরিকদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশজুড়ে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম রোধে সহযোগিতা কামনা করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল বলেন, “বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ও জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ করছি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
কিন্তু তার আহ্বানের পরও রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে ভয়াবহ সহিংসতা দেখা দেয়। কোঠেশ্বর এলাকায় বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পরে আত্মসমর্পণ করা তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে রাস্তায় টেনে এনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা একে “অভূতপূর্ব বর্বরতা” বলে বর্ণনা করেছেন।
নেপাল পুলিশ সদর দপ্তর নাক্সাল এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘বর্বরোচিত’ উল্লেখ করে জানায়, রাজধানীর দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঠমাণ্ডু ভ্যালি পুলিশ অফিসের ডিআইজি ওম রানা গণমাধ্যমকে জানান, নিহত তিনজনই কোঠেশ্বর থানার সদস্য। এছাড়া মহারাজগঞ্জ পুলিশ সার্কেল এবং কালিমাটি এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
রাজধানীজুড়ে সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যালয়ও বিক্ষোভকারীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। একের পর এক অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় আইন-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতা নেপালকে এক অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au