কাতারে ইসরায়েলি হামলার অন্যতম নিশানায় থাকা খলিল আল-হায়াফাইল ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- দোহায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। গত মঙ্গলবারের এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল।
হামাস জানিয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচ সদস্য ও একজন কাতারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে আলোচক দল বা শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো ক্ষতি হয়নি। হামাসের সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় সংগঠনের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হামাসের নির্বাসিত গাজা শাখার প্রধান ও শীর্ষ আলোচক খলিল আল–হায়া।
ইসরায়েলি হামলার অন্যতম প্রধান নিশানা ছিলেন খলিল আল–হায়া। নির্বাসনে থেকেও তিনি বর্তমানে হামাসের গাজা শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।
গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া, গাজার নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফ হত্যাকাণ্ডের পর আল–হায়ার গুরুত্ব বেড়ে যায়। এরপর থেকে তিনি পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে গাজায় জন্ম নেওয়া আল–হায়া হামাসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুক্ত। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, বিশেষত কাতারে অবস্থান করায় তিনি ইসরায়েল, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
ইসরায়েলি হামলায় আল–হায়ার পরিবারও একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁর ছেলে ওসামা, পুত্রবধূ ও তিন নাতি-নাতনি নিহত হন। এবার নিহত হয়েছেন আরেক ছেলে হুমাম আল–হায়া। তিনি বলেন,
“যেকোনো প্রাণহানিই মর্মান্তিক। (ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী) আন্দোলনের নেতৃত্বের রক্তও ঠিক ততটাই মূল্যবান, যতটা কোনো ফিলিস্তিনি শিশুর রক্ত।”
আল–হায়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের হামলার নিশানায় ছিলেন জাহের জাবারিন। তিনি হামাসের আর্থিক কার্যক্রমের প্রধান ও নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ২০১১ সালে বন্দিবিনিময়ে মুক্ত হয়ে দ্রুত শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং সংগঠনের অর্থায়ন ও বিনিয়োগ নেটওয়ার্কের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে পশ্চিম তীরে হামাসের প্রধানও তিনি।
কাতারে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—
- জিহাদ লাবাদ (আল–হায়ার দপ্তরের পরিচালক)
- হুমাম আল–হায়া (আল–হায়ার ছেলে)
- আবদুল্লাহ আবদুল ওয়াহিদ (দেহরক্ষী)
- মোয়ামেন হাসসুনা
- আহমেদ আল–মামলুক
এছাড়া নিহত হয়েছেন কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল–হুমাইদি আল–দোসারি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হলে হামাস পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করে। তাঁদের মধ্যে আছেন খলিল আল–হায়া ও জাহের জাবারিন। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা হচ্ছেন—
- ইজ্জ আল–দীন আল–হাদ্দাদ : গাজায় হামাসের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা।
- খালেদ মেশাল : নব্বইয়ের দশক থেকে হামাসের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা, বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।
- মোহাম্মদ দারবিশ : নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান, কাতারে অবস্থান করছেন।
- নিজার আওয়াদাল্লাহ : হামাসের দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতা, সাম্প্রতিক সময় প্রকাশ্যে আসেননি।
সূত্রঃ আল–জাজিরা