নতুন বসতি স্থাপন প্রকল্পের চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েল কখনোই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে ভালো চোখে দেখেনি। এবার আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—“ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বলে কিছু থাকবে না।”
সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বৃহৎ বসতি স্থাপন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি। জেরুসালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত অবৈধ বসতি মাআলে আদুমিমে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন,
“আমরা আমাদের অঙ্গীকার পূরণ করব। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এই জায়গাটি আমাদের জন্য নির্ধারিত। আমরা আমাদের উত্তরাধিকার, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তাকে সমুন্নত রাখব। আমরা এই নগরীর জনসংখ্যা দ্বিগুণ করব।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের ফ্রান্স, কানাডা, মাল্টা, বেলজিয়াম ও ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (২২ সেপ্টেম্বর) এ স্বীকৃতিকে আনুষ্ঠানিক করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
কিন্তু এর বিপরীতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার দৃঢ় কণ্ঠে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছে।
ইসরায়েলের তথাকথিত ‘ই-১ প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ হাজারের বেশি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীরের দখল অবৈধ হলেও ইসরায়েল সেখানে ধারাবাহিকভাবে বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, “এভাবে বসতি স্থাপন করলে কার্যত পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হবে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।”
নেতানিয়াহুর অঙ্গীকারের ছায়া
ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থি নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন—এই উদ্যোগ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে ‘কবর’ দেবে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এটি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করবে।
ফলত, প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নাটকীয় পদক্ষেপ না নিলে নেতানিয়াহুর হুমকি বাস্তব রূপ নেবে কি না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হয়তো সত্যিই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে।