ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরালের প্রতিবেদন । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর- বিশ্বের অধিকাংশ দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গণতন্ত্র ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র।
গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে কাজ করা স্টকহোমভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (IDEA) প্রকাশ করেছে এই গবেষণা। ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি ২০২৫’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১৭৪টি দেশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯৪টি দেশে গণতন্ত্রের অন্তত একটি সূচকে অবনমন ঘটেছে।
“উদ্বেগজনক পরিস্থিতি” — মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা
IDEA-এর মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা বলেন,
“বিশ্বে গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, বিচার ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও কার্যকর সংসদের অভাবে।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গা দখল করছে স্বৈরশাসনের বিভিন্ন রূপ, যা আগামী দিনের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
প্রতিবেদনটি শুধু নেতিবাচক দিক নয়, কিছু উন্নতির দিকও তুলে ধরেছে। আফ্রিকার বতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়। শুধু ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালেই ৪৩টি দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে।
- আফ্রিকায় ১৫টি দেশ
- ইউরোপে ১৫টি দেশ
- এশিয়ায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া
- আফ্রিকায় বুরকিনা ফাসো
কেভিন কাসাস-জামোরা জানান, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেকোনো গণতন্ত্রের প্রাণ। অথচ এখন সেটিই সবচেয়ে বড় সংকটে।”
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আশানুরূপ নয়। চারটি সূচকের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব সূচকে ৩৫তম এবং অধিকারের ক্ষেত্রে ৩২তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগের অবস্থা বিবেচনা করে।
বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের যে সংকট স্পষ্ট হচ্ছে, তা শুধু নির্বাচনী অবনতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- সংসদের কার্যকারিতা
- মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
সবকিছু মিলিয়েই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভঙ্গুর করে তুলছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে—যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্বৈরতন্ত্রই প্রধান ধারা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রঃ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরালের