১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার
বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন পথ চালু করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায়…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে সম্প্রতি মার্কিন সামরিক তৎপরতার বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমার বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষত ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এই বন্দরনগরীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে টেনে এনেছে।
রবিবার মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি C-130J সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি সাধারণত জাপানের ইয়োকোটা এয়ারবেসে অবস্থান করে। যদিও ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখযোগ্য কিছু নয়, আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার একটি বড় চিত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন।
চট্টগ্রামে ঘন ঘন মার্কিন উপস্থিতি
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মার্কিন সেনাদের চট্টগ্রামে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি মিশন, যৌথ মহড়া ও টহল কার্যক্রম এখন আর নতুন কিছু নয়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের যৌথ মহড়া অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল-২৫ এবং টাইগার লাইটনিং-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দুর্যোগ মোকাবিলা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং কৌশলগত প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, নতুন মার্কিন সেনা দল চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে এবং আরও একটি মহড়ার প্রস্তুতি চলছে।
আঞ্চলিক দাবার বোর্ডে নতুন খেলা
চট্টগ্রামের সামরিক তৎপরতা শুধু বাংলাদেশকে ঘিরেই নয়, বরং সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এর মধ্যে রহস্য আরও গভীর করেছে গত মাসে ঢাকার এক বিলাসবহুল হোটেলে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক কর্মকর্তার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা। এতে গুপ্তচরবৃত্তি ও গোপন অভিযানের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মার্কিন সেনাদের চট্টগ্রামে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
হাসিনা সরকারের পতন ও মার্কিন অভিযোগ
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি নিয়েও বিতর্ক থামেনি। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সরকারের পতন ঘটিয়েছে একটি “স্ট্রিট রেভল্যুশন” উসকে দিয়ে। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে মার্কিন স্বার্থে ছেড়ে দিতে তাঁর অস্বীকৃতি।
নজর রাখছে প্রতিবেশীরা
আজকের চট্টগ্রাম তাই আর কেবল একটি বন্দরনগরী নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত দাবার বোর্ডের কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে ভারত, মিয়ানমারসহ সমগ্র অঞ্চল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের দিক থেকে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এখন আন্তর্জাতিক শক্তি প্রদর্শনের এক পরীক্ষাগার।
সুত্রঃ ওয়ান ইন্ডিয়া ডটকম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au