সর্বশেষ

লিবারেল পার্টির অভিবাসন ইস্যু আসলে দলটির অবস্থান নির্ধারণের লড়াই

  • 3:39 am - September 17, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১১৯ বার
লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের পর লিবারেল পার্টির কেউ কেউ নাইজেল ফ্যারেজের পথ অনুসরণে আগ্রহী। ছবিঃ রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- লিবারেল পার্টির ভেতরে ভারতীয় অভিবাসন নিয়ে যে লড়াই চলছে, সেটি এখন সাসান লে’র নেতৃত্বকে ঘিরে এক ধরনের পরোক্ষ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তবে এর কেন্দ্রে আসলে রয়েছে লিবারেল পার্টি নিজেদের কোথায় অবস্থান করাতে চায়, সেই প্রশ্ন।

যেমন নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনে জোট সরকার সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কি না তা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে, তেমনি অভিবাসনও এখন লিবারেল পার্টির ভেতরে এক নতুন বিভাজন রেখায় পরিণত হয়েছে, যা আবারও বিস্ফোরিত হবে। এটা কোনোভাবেই শেষ হয়ে যায়নি।

এখানে মূলত দুটি দল আছে—কিছু নেতা (সবাই নয়) যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজের উত্থানকে অনুসরণ করতে চান কঠোর অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য দিয়ে। অন্যরা মনে করেন, এই পথে হাঁটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিপজ্জনক, কারণ দেশটি যুক্তরাজ্যের মতো পরিস্থিতিতে নেই।

যুক্তরাজ্যে জনঅসন্তোষ তুঙ্গে, এবং ফারাজ এখন বড় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ সময়ে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাস্তব।

কিন্তু মনে রাখা দরকার, যুক্তরাজ্যে ফারাজের উত্থান হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কনজারভেটিভ পার্টির পতনের বিনিময়ে। সম্প্রতি ন্যাশনাল কাউন্সিল নির্বাচনে দলটি ৬৭৬টি আসন হারিয়েছে এবং এখনো বুঝতে পারছে না তারা কি ঐতিহাসিক মূল্যবোধে টিকে থাকবে, নাকি ফারাজের ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের মতো হবে।

লিবারেল পার্টির কনজারভেটিভরা বিশ্বাস করেন, অভিবাসন ও জলবায়ু নিয়ে যদি তারা চরম অবস্থান না নেয়, তবে টোরিদের মতো পতনের মুখে পড়তে পারে।

লন্ডনে বিশাল অভিবাসনবিরোধী সমাবেশ
শনিবার লন্ডনে অতি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে দশকের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী সমাবেশ হয়। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এতে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
প্রদর্শনকারীরা কেন্দ্রীয় লন্ডনে সমবেত হয়ে ‘মুক্ত মত প্রকাশ উৎসব’ নামে র‌্যালি করে। তবে সেখানে বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও ইসলামবিরোধী বক্তব্য শোনা যায়।

ভিড় পুলিশের অনুমানের বাইরে চলে যায় এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনার ছবি প্রমাণ করে উদ্বেগ কীভাবে বাড়ছে। বর্ণবাদের উত্থানও স্পষ্ট।

ভাষার আড়ালে অভিবাসন বিতর্ক
এখন যদি সেনেটর জাসিন্তা ন্যাম্পিজিনপা প্রাইসের মন্তব্যকে শুধু ‘অসাবধানবশত ভাষা’ বলা হয়, তবে আসল বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হবে। আসলে লিবারেল পার্টির ভেতরে অভিবাসনকে ঘিরে বড় লড়াই চলছে।

কিছু নেতা, যেমন প্রাইস, চান দলটি ‘বড় আকারের অভিবাসন’-এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাক। কিন্তু অন্যরা, বিশেষ করে লে’য়ের নিয়োগপ্রাপ্ত শ্যাডো মন্ত্রী পল স্কার প্রকাশ্যে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এখন কোনোভাবেই ‘ম্যাস মাইগ্রেশন’-এর মুখে নেই।

গত সপ্তাহে স্কার বলেন, “‘ম্যাস মাইগ্রেশন’ বলতে আমি বুঝি এক ভূখণ্ড থেকে আরেক ভূখণ্ডে বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তর। যেমন ১৯৪০-এর দশকে ভারত-পাকিস্তানের বিভাজনের সময়, বা ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অভিবাসন। অস্ট্রেলিয়ায় যা ঘটছে, তাকে আমি সে অর্থে ম্যাস মাইগ্রেশন বলব না।”

তবে সমস্যাটি হলো—যখন তিনি এই শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন, অন্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ম্যাস’ শব্দটি ব্যবহার করছেন, যা ভয়ের চিত্র তুলে ধরে, যেন অভিবাসন অগোছালো ও আইনহীন।

সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে অভিবাসন বিতর্ক
লেবার জানে এই ধারণার ঝুঁকি কত বড়। এ কারণেই তারা সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি নাউরু নিয়ে হওয়া চুক্তিও প্রমাণ করে তারা এই কৌশল থেকে সরে আসবে না।

এখন লিবারেল পার্টির কনজারভেটিভ শাখা ঐতিহাসিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সুবিধাকে আইনসঙ্গত অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে পরিণত করতে চাইছে।

এ ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৫ সালে প্যারিসে হামলার পর স্কট মরিসন বলেছিলেন, সিরীয় শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিতে খ্রিস্টানদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যদিও পরে অভিবাসন বিভাগ স্পষ্ট করে জানায়, এটি হবে বৈষম্যহীন একটি কর্মসূচি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট সম্প্রতি লিখেছেন, “অভিবাসনের পক্ষে থাকা মানেই ক্রমাগত বড় এবং বহুমুখী অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষে থাকা নয়।”

তিনি জোর দিয়েছেন বৈচিত্র্যের কথায়। আসলে এখানে অভিবাসীর সংখ্যার চেয়ে কাদের আনা হচ্ছে, সেটিই বড় বিষয়। অনেক লিবারেল এমপি মনে করেন, অভিবাসনের গঠন নিয়েই বিতর্ক হচ্ছে, যা অতীতে বৈষম্যহীন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অ্যাবট, যিনি প্রাইসকে দলে এনেছিলেন, এক পডকাস্টে বলেন, “আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে বহুদিন ধরে। বামপন্থীরা প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে অ্যানগ্লো-সেল্টিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করছে। আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।”

এ বছর শুরুর দিকে বিরোধীদলীয় নেতা পিটার ডাটন বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তার সরকার নেট অভিবাসন ১ লাখ কমাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেবার নিম্নকক্ষে ৯৪ আসন জিতে নেয়, আর লিবারেলরা ভরাডুবি করে।

অভিবাসন ইস্যুতে ডাটনের প্রচার তেমন ফল দেয়নি। এখন সাসান লে নীতি নির্ধারণের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, এবং অভিবাসন বিতর্ক মোটেই শেষ নয়।


প্যাট্রিসিয়া কারভেলাস এবিসি নিউজ চ্যানেলের উপস্থাপক, ফ্রান কেলির সাথে সাপ্তাহিক পার্টি রুম পডকাস্টের সহ-উপস্থাপক এবং রাজনীতি ও সংবাদ পডকাস্ট পলিটিক্স নাউ-এর উপস্থাপক।

এবিসি নিউজ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

এই শাখার আরও খবর

গার্হস্থ্য সহিংসতা নিয়ে পলিন হ্যানসনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা, সরব ব্রিটানি হিগিন্স

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-  অস্ট্রেলিয়ায় গার্হস্থ্য সহিংসতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন-এর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন নারী অধিকারকর্মী ব্রিটানি হিগিন্স। হ্যানসন দাবি…

মাদারীপুরে ৪ বছরের শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ: কান্নায় ভেঙে পড়া মায়ের ভিডিও ভাইরাল

মেলবোর্ন | ওটিএন বাংলা, ২২ জুলাই: বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের…

জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জম্মু ও কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।…

জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের, সবচেয়ে বড় ধাক্কার শঙ্কায় ভারত

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব ধরনের জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও…

বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বিএসপিসির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার ইনকরপোরেটেড (BSPC)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ২০২৬ অনুষ্ঠিত…

অমিত শাহ-ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ভারতের পার্লামেন্ট উত্তাল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au