জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জম্মু ও কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- বিশ্বের রাজনীতিতে সম্প্রতি অস্থিরতা বাড়ছে। কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরায়েল দোহায় হামাস নেতাদের ওপর হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা হঠাৎ করে জরুরি বৈঠক ও সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। কাতার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, এটি গাজার শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও।
এই হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দোহায় কাতারের আমিরকে আলিঙ্গন করেছেন। কয়েক বছর আগে দুই দেশের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব থাকায় এমন দৃশ্য কল্পনাও করা যেত না। সৌদি আরবও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আরব, ইসলামি ও আন্তর্জাতিক সমাজকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের তিয়ানজিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একত্র হতে দেখা গেছে। সেখানে হাসিমুখে কথাবার্তা চলেছে। এই সমাবেশের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ট্রাম্পের আচরণকে ধরা হচ্ছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করেছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিদেশি নেতাদের ওয়াশিংটনে স্বাগত জানানোর সময় মোদি ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। ট্রাম্প তাকে ‘মহান বন্ধু’ বলেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যবসা দ্বিগুণ করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু মাস কয়েক পরই ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। কাতারে সফরের সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।” কিন্তু বাস্তবে বন্ধুত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও জড়িত।
এসব বৈঠক, সমাবেশ এবং একতার প্রকাশ কেবল দেখানোর জন্য নয়। ভারত ও কাতার সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেতে আগ্রহী নয়। তাদের অসন্তোষ বা বন্ধুত্ব প্রদর্শন মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা যে, তারা বিশ্বাসঘাতক নয় এবং বিকল্পও আছে। তবে এই আয়োজনকে সত্যিকারের শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট তৈরি করার প্রচেষ্টা হিসাবেও দেখা যায়।
ইসরায়েলও একইভাবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়। তারা মনে করে, তাদের হাতেই বাজার এবং নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ আছে। যুক্তরাষ্ট্রও কখনোই শর্ত চাপানো থেকে বিরত হবে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে, অন্যান্য দেশগুলো এই অস্থির পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতে বাধ্য হবে। এর কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে দুর্বল মনে করে না, বরং খামখেয়ালি আচরণের কারণে নিজেদের ক্ষমতা যাচাই করতে চায়।
উদাহরণস্বরূপ, আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারে হামলার পর ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেনি। তীব্র সমালোচনা করেছে এবং চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের বিদেশনীতি ও খামখেয়ালি আচরণ এখন বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে, আর অতিরিক্ত বিনিয়োগও আস্থা পুনঃস্থাপনে খুব কাজে আসবে না।
নাসরিন মালিকদ্য গার্ডিয়ান–এর কলামিস্ট
দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au