বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবিঃ খালেদা জিয়া
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত গঠন, বিরোধীদের সমালোচনার জবাব এবং সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে দুর্গাপূজা শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে দলটি।
জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বৈঠক, সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে এ প্রচারণা চলবে। একইসঙ্গে বিএনপি সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে। নারী নেত্রীদের জন্যও একটি খসড়া তালিকা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দলের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডার ভিত্তিতে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করবে বিএনপি। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং মিত্র রাজনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তৃণমূলে নানা অপরাধের অভিযোগ ও প্রভাব বিস্তারে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অবস্থাতেই তারা নতুন এ প্রচারণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর পাঁচ দফা দাবির বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব দাবির মধ্যে ছিল জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট নিষিদ্ধ করা, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট। বিএনপি নেতারা এ দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ এবং সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “কেবল কয়েকটি আসন নিশ্চিত করতে পিআর পদ্ধতির দাবি জাতীয় স্বার্থবিরোধী। এটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।” তিনি আরও জানান, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা সমর্থনযোগ্য নয়, এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ তাদের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করছে। শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। সরকার ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রস্তুতি চলছে।
বৈঠকে আরও দাবি করা হয়, ডাকসু নির্বাচনে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আঁতাত হয়েছিল। তাদের মতে, ছাত্রলীগের ভোট ছাত্রশিবিরের দিকে চলে যাওয়ায় বিএনপি ভরাডুবি করেছে। নেতারা সাংগঠনিক দুর্বলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতিকেও দায়ী করেছেন।
এ অবস্থায় তারা কাঠামো পুনর্গঠন, সমন্বয় জোরদার এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিএনপির জরিপ
দলীয় সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি ৩০০ আসনে জরিপ চালিয়ে বিতর্কমুক্ত, জনপ্রিয় ও শিক্ষিত প্রার্থীদের তালিকা করেছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে পরামর্শ দেওয়া হয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার। জরিপে উপযুক্তদের প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংকেত দেওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এছাড়া, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পরামর্শ দেন নেতারা। এ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ১৫ থেকে ২০ জন নারী প্রার্থী করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি।