মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়লেন ইংল্যান্ডের কেইন
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক…
মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক ঋণের অঙ্ক আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১১ হাজার ২১৬ কোটি ডলার সমান। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।
মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে এই ঋণের পরিমাণ। অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয়, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপকে এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও এআইআইবি’র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে বড় আকারে। একইসঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও বিদেশি উৎস থেকে কম সুদের ঋণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছরে দেশে ডলারের সংকট তৈরি হয়। আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিদায়ী সরকারের সময়ে রিজার্ভের পতন ঠেকানো যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও ঋণের প্রবাহ সচল থাকায় রিজার্ভে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, মার্চ শেষে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ৭৩৬ কোটি ডলার। আর গত ডিসেম্বরে তা ছিল ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৮৪৩ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য হলেও অপচয় রোধ না করলে ঝুঁকি বাড়বে। তবে জিডিপির অনুপাতে ঋণ এখনো সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। তার মতে, সুদ ও মূল অর্থ পরিশোধের চাপ বাড়ছে, যা সামলাতে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১০ বছরে ঋণ প্রায় তিনগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায় বৈদেশিক ঋণ, আর এবার তা পেরিয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সেই হিসেবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৮ ডলার বা প্রায় ৭৭ হাজার ৪৩৩ টাকা। ১০ বছর আগে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ২৫৭ ডলারের কিছু বেশি।
বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের ৮২ শতাংশ সরকারি খাতে, বাকি ১৮ শতাংশ বেসরকারি খাতে। সরকারি ঋণ জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৩৭ কোটি ডলার, যা তিন মাস আগের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। অপরদিকে বেসরকারি ঋণে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au