ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস: শিগগিরই মিলছে চালুর নির্দিষ্ট তারিখ
ঢাকা-কলকাতা রুটে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ট্রেনটি কবে…
মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রতিদিন হাজারো নৌযান চলাচল করলেও এ পর্যন্ত কোনো নৌযান জরিপ বা নৌশুমারি হয়নি। ফলে কতসংখ্যক এবং কী ধরনের নৌযান চলাচল করছে, তার সঠিক চিত্র সরকারের কাছে নেই।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হিসাবে, ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৫৫২টি নৌযান নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ ৮৫৩টি, বালুবাহী ৭ হাজার ৯৩৩টি, মালবাহী ৩ হাজার ৮৩৮টি, স্পিডবোট ১ হাজার ২৮১টি, ফেরি ৫০টি, ফ্লোটিং হাসপাতাল ৭টি এবং আরও বিভিন্ন ধরনের মোট ২২ প্রকার নৌযান অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু নিবন্ধনের বাইরে আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ছোট-বড় নৌযান নিয়মিত চলাচল করছে বলে ধারণা করা হয়। এসব নৌযান থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালে নৌযান শুমারি প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা ঝুলে ছিল। অবশেষে ২০২৫ সালের এপ্রিলে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় নৌযান ডেটাবেইস তৈরি হবে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি নৌযানের নাম, নিবন্ধন, ইঞ্জিনের বৈশিষ্ট্য, কার্বন নিঃসরণসহ সব তথ্য ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌপরিবহন খাত সম্ভাবনাময় হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত। নদীর নাব্যতা সংকট, ড্রেজিংয়ের ঘাটতি, আধুনিক ঘাট ও টার্মিনালের অভাব, পুরোনো নৌযান, নিরাপত্তা সরঞ্জামের স্বল্পতা এবং নীতিগত সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান উদ্দিন বলেন, “সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়। জরুরি ভিত্তিতে নৌশুমারি, অনিবন্ধিত নৌযান নিয়ন্ত্রণ, ড্রেজিং বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বাজেট বাড়ালে নৌপথে টেকসই যাত্রী ও মাল পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এমন বাস্তবতায় আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নৌ দিবস পালন করছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর নৌশুমারি ও আধুনিকায়ন ছাড়া সম্ভাবনাময় এই খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au