ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ
ইতালির মেস্ট্রেতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায়…
কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধারের পর একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচ চীনা নাগরিক ও এক তাইওয়ানের নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার দুটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটির সঙ্গে আরও প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চক্রটির সংগঠক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে একটি বড় কম্পিউটার পরিচালনাকেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে একটি হলরুমকে কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। এছাড়া ছয়টি শব্দনিরোধক কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন, প্রায় ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার এবং ২৪টি কানেকশন বোর্ড। এসব সরঞ্জাম একসঙ্গে ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক অনলাইন পরিচয় ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হতো বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রথম দিকে পুলিশ ঘটনাটিকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করলেও বর্তমানে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট বা সিটিটিসি বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করছে। তদন্তে ভুয়া বাজার বিশ্লেষণ, প্রতারণামূলক বিনিয়োগের প্রস্তাব, নকল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এবং গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চক্রটির কার্যক্রমের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তকারীদের ধারণা, চক্রটির কার্যক্রম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘পিগ-বুচারিং’ ধরনের অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে মিল থাকতে পারে। এ ধরনের প্রতারণায় প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা হয়। পরে তাকে ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয় এবং একপর্যায়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
কক্সবাজারের একাধিক স্থাপনা ব্যবহার করে চক্রটি কয়েক মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকার মেরিনা বিচ ভিলাস ছাড়াও উখিয়ার ইনানী এলাকার ড্রিম হলিডে রিসোর্ট, অর্কিড ব্লু এবং স্থানীয়ভাবে ‘ইলিয়াস ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত একটি আবাসিক ভবনে চক্রটির সদস্যরা অবস্থান করতেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাস থেকে এসব স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কতজন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মূল স্থাপনাটি এপ্রিল মাসে ‘বাবর আলী’ ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এক চীনা নাগরিক ভাড়া নেন। তার এক সহযোগী ভাড়ার চুক্তি সম্পন্ন করেন। আরেক ব্যক্তি নিজেকে ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও তদন্তে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের ঘটনাটি শুধু একটি সাইবার প্রতারণা চক্রের কর্মকাণ্ড নয়, বরং বাংলাদেশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাইবার প্রতারণা চক্রগুলো এরই মধ্যে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতারণার পাশাপাশি মানবপাচার, অর্থপাচার এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধও জড়িয়ে পড়েছে।
মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের প্রতারণাকেন্দ্র গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এখনো সেই মাত্রার কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, এমন প্রমাণ নেই। তবে তদন্তে পাওয়া কক্সবাজারের ঘটনাটি সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল, ভাড়া বাসা ও আবাসিক স্থাপনা ব্যবহারের ওপর নজরদারি, সাইবার অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা এবং স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, আধুনিক সাইবার প্রতারণা পরিচালনার জন্য বড় কোনো সুরক্ষিত স্থাপনা প্রয়োজন হয় না। হোটেল, রিসোর্ট, ভাড়া বাসা কিংবা সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবহার করেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
এরই মধ্যে ঢাকা শহরের উত্তরা, বসুন্ধরা ও নিকুঞ্জ এলাকাতেও চীনা নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি এবং অনলাইন জুয়ার মতো কর্মকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশি সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারের চক্রটির সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে এসব অপরাধী নেটওয়ার্ক নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিস্তার ঠেকাতে শুরুতেই নজরদারি ও তদন্ত জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজারের ঘটনায় গ্রেফতার ছয়জনের বাইরে আরও যারা সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন, তাদের পরিচয় ও ভূমিকা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে চক্রটির স্থানীয় সহযোগী কারা ছিলেন, কীভাবে তারা সরঞ্জাম ও জনবল সংগ্রহ করেছে এবং কয়েক মাস ধরে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কক্সবাজারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো সাইবার অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড, নাকি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্কের বড় ধরনের বিস্তারের সূচনা। তবে এখনই বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় কোনো ‘স্ক্যাম হাব’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
সুত্রঃ The Daily Star
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au