কক্সবাজারে চীনা সাইবার প্রতারণা চক্র, বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার শঙ্কা
কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধারের পর একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচ চীনা…
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন পথে পথে ঘুরতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডিআরইউতে জিরো মিসিং চিল্ড্রেন আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় তারা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত এবং শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী নিখোঁজ হয়। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে তাকে তিন দিন ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জিডি নেওয়া হলেও পুলিশ আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে দাবি তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হোশেন আলী বলেন, ‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’ আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধারদেনা করে ছেলের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি ছাপাচ্ছেন তিনি। তার একমাত্র আকুতি, যেভাবেই হোক সন্তানকে খুঁজে দেওয়া হোক।
একইভাবে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন সাভারের বলিয়ারপুরের বাসনা কর্মকার। গত ৩০ জুলাই নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হয় তার চার বছরের ছেলে যাদব কর্মকার। বাসনা কর্মকারের অভিযোগ, ফোনে হুমকি পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হলেও তদন্তে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। প্রায় এক মাস ধরে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জায়গায় ছুটছেন তিনি।
কামরাঙ্গীরচরের তিন বছরের শিশু সামিয়াও নিখোঁজ রয়েছে ১১৫ দিন ধরে। পরিবারের অভিযোগ, বাসার সামনে খেলতে গিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়। এরপর পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। পরে ‘মিঠাই’ নামে টিকটকে শিশুটিকে দেখা গেলেও বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় করা মামলা পরে ডিবি ও পিবিআইতে গেলেও এখনো সামিয়ার সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, অনলাইন জিডির ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জিডি প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু হিসেবে বিবেচিত। প্রেমের সম্পর্ক, অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও মিসিং জিডির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
শিশু নিখোঁজের ঘটনা মোকাবিলায় নতুন কোনো বিশেষ তৎপরতা চালু হবে কি না জানতে চাইলে খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তবে শিশু নিখোঁজের বিষয়টির প্রতি পুলিশের ‘সেনসিটিভিটি’ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার। দ্রুত তদন্ত ও সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে অনেক পরিবার বছরের পর বছর সন্তানদের সন্ধান থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
তারা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি পুরোনো ও অমীমাংসিত ঘটনাগুলো নতুন করে তদন্ত, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দাবিগুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au