ব্যালন ডি’অর ২০২৬: মনোনয়ন প্রকাশ শুরু, সেরা হওয়ার দৌড়ে যারা
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ সালের মনোনয়ন প্রকাশ শুরু হয়েছে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষক, সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা কোচ ও…
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্ক সফরে থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম এনপিআরের সঙ্গে আলাপে মুহাম্মদ ইউনূস দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, অর্জন ও আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
গত বছরের আগষ্ট মাসে ছাত্র–যুব সমাজের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রতিবাদকারীদের দাবির পর সেনাবাহিনী মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এখন তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন, যেখানে শুক্রবার তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, তাঁর বার্তা হলো “তিন শূন্যের বিশ্ব”—শূন্য নিট কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদকেন্দ্রীকরণ, এবং শূন্য বেকারত্ব।
তিনি স্বীকার করেন, দেশের লাখো মানুষের স্বপ্ন–আকাঙ্ক্ষার ভার কাঁধে নেওয়া সহজ কাজ নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠনকে। তাঁর ভাষায়, “যাঁরা ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, আজ তারাই রাস্তায় শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে। এতে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।” তবে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা কিছুটা ফিরিয়ে আনা গেছে, যদিও ভাঙা সিস্টেম পুরোপুরি ঠিক করতে সময় লাগবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদন তুলে ধরে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলে ইউনূস বলেন, সমস্যার মূল কারণ শেখ হাসিনা এখনও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে দলীয় অনুসারীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। “ভারত সরকার তাঁকে এভাবে সুযোগ দিচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় হুমকি,” বলেন ইউনূস।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন তিনি—ব্যবস্থার সংস্কার, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হত্যার বিচার, এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। ইউনূস নিশ্চিত করেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে সহিংসতা ও অতীতের অপরাধ থেকে নিজেদের দায় স্বীকার করলে পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।
অর্থনীতির প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “আমরা এক ধ্বংসস্তূপের অর্থনীতি পেয়েছি। মনে করুন ১৫ বছরের ভূমিকম্প—সবকিছু ভেঙেচুরে গেছে। এখন আমরা নতুন করে ব্যাংক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সচল করেছি।” তিনি স্বীকার করেন, ২০২৪ সালে প্রায় ২০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তবে তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করাই তাঁদের লক্ষ্য।
ইউনূস আবারও পরিষ্কার করে জানান, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি অন্য এক জগত থেকে এসেছি, আবার সেখানেই ফিরে যাব।”
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ এলে ইউনূস বলেন, তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির কারণে দ্রুত সংগঠিত হতে পারছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হচ্ছে, কারণ তারা ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে না। বাংলাদেশেও সেটিই ঘটেছে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “লড়াই চালিয়ে যাও। হাল ছেড়ো না। এটা তোমাদের দেশ। তোমাদের মতো করে তোমাদের দেশ গড়তে হবে।”
সূত্র: এনপিআর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au