অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাত দেশটির অর্থনীতির অন্যতম বড় অবলম্বন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে একটি সরকারি সংস্থা। জবস অ্যান্ড স্কিলস অস্ট্রেলিয়ার (Jobs and Skills Australia) সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখতে ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার ওপর আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
রিপোর্টের মূল বক্তব্য
- অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ইংরেজি দক্ষতা প্রদর্শন করলেও বাস্তবে তারা পড়াশোনায় ও যোগাযোগে পিছিয়ে পড়ছে।
- এ অবস্থার কারণে ক্লাসের মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত মানের সুনাম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি কোর্স চলাকালীন ইংরেজি উন্নয়ন কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাত দেশটির অর্থনীতির অন্যতম বড় অবলম্বন। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসে। রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি পূরণ না করা যায়, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিগ্রির মূল্যমান কমে যেতে পারে।
রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে—
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা উন্নয়নে বিশেষ সহায়ক কোর্স চালু করতে হবে।
- শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে পড়াশোনার পুরো সময়ে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।
- শিক্ষক ও গবেষকরা যাতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিরিক্ত সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বিদেশিদের প্রতি বৈষম্যের মতো হতে পারে।অন্যদিকে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গুণগত মান রক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও আংশিকভাবে একমত হয়ে জানিয়েছে, তারা ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে একদিকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ভালো করবে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।