ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিঃ ভিডিও থেকে নেয়া
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধেরুয়া কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কয়েকজনের সহায়তায় অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে বিদ্যালয়ের ভবন থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দিচ্ছেন।
অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টের আগ থেকেই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। সময়ের সঙ্গে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। “তাঁরা আমার দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, এমনকি বেতনও বন্ধ করে দেন। তারপরও আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতাম,” বলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার এনটিআরসিএর নতুন শিক্ষকদের যোগদানের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন তাঁকে জোর করে বের করে দেন। এই ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
গোলাম মোহাম্মদের দাবি, “আনোয়ার হোসেন একটি চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় আমার ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাইয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে ৫ আগস্ট তাঁকে সরিয়ে ধর্মের শিক্ষক সাজেদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় দুইটি পক্ষ তৈরি হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সাজেদুল ইসলাম বলেন, “তদন্তের পর ইউএনও আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক চাপে আগের অধ্যক্ষকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হয়।”
অধ্যক্ষের করা মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “অধ্যক্ষ অভিযোগ দিয়েছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে আগেও দ্বন্দ্ব চলছিল।”
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সামনে ও বাজার এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা শিক্ষকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সুজিত কুমার দাস বলেন, “এটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রশাসনের উচিত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা।”
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমান, ব্যবসায়ী আবুল কালাম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আবদুর রশিদসহ অনেকে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কীভাবে স্কুল চলাকালে এমন ঘটনায় জড়ালেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”