দক্ষিণায়নের এই সময়টিতে দেবীকে জাগ্রত করতে সন্ধ্যায় মন্দির ও মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বন্দনাপূজা।
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- আজ বোধন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনার আগে এই বোধনই দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার আচার। দক্ষিণায়নের এই সময়টিতে দেবীকে জাগ্রত করতে সন্ধ্যায় মন্দির ও মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বন্দনাপূজা। আজ শনিবার পঞ্চমীর সায়ংকালে সেই বোধন অনুষ্ঠিত হবে। আর কাল রোববার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব।
বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চেতনার উদয়। এটি দুর্গাপূজার অন্যতম অপরিহার্য আচার। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলগাছের শাখায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণে বর্ণিত আছে, রাক্ষসরাজ রাবণকে বধের উদ্দেশ্যে ভগবান রাম শরৎকালে দুর্গাপূজা করেছিলেন। সেই সময়ই তিনি দেবীর এই ‘অকালবোধন’ করেন। তাই শরৎকালীন দুর্গাপূজাকে অকালবোধনও বলা হয়। বসন্তকালের বাসন্তীপূজায় এ আচারটি পালন করা হয় না।
আজকের বোধনের পর আগামীকাল মহাষষ্ঠীর সকালে ষষ্ঠীবিহিত পূজা, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা। এরপর সোমবার মহাসপ্তমী, মঙ্গলবার মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা, বুধবার মহানবমী, আর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই উৎসব।
সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন। বিশ্বাস করা হয়, এতে পৃথিবী শস্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হবে। তবে দেবী দোলায় (পালকি) চড়ে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করবেন, যা দুর্ভিক্ষ বা মহামারির আশঙ্কার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
এদিকে শুক্রবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবারের দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।