পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকদিনের অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতার পর খাগড়াছড়িতে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকদিনের অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতার পর খাগড়াছড়িতে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা, মহাজন পাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি অবনতির পর জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। এলাকায় ৭ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা মোতায়েন আছে।
সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রাতে বৌদ্ধবিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন পাহাড়ি যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সহিংসতার কারণে সাজেকে ঘুরতে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তারা খাগড়াছড়ি হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জুম্ম ছাত্র–জনতার ব্যানারে শনিবার সকাল–সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।
অবরোধ চলাকালে বিভিন্ন এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। আলুটিলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং নারানখাইয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। কিছু সময় পর আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানান, বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।