খালিল আল-হাইয়া। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন,৬ অক্টোবর- গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ঘরবাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলা হলে এক দীর্ঘ দিনের নীরবতার পর হামাসের একজন শীর্ষ আলোচক সাহসিকতার সঙ্গে প্রকাশ্যে উঠে এলেন এবং কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানালেন।
এই হামলা সংঘটিত হয় যখন হামাসের মর্যাদাবান প্রতিনিধিরা দোহায় শান্তিচুক্তি ও বন্দি মুক্তি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আলোচনা করার জন্য বসেছিলেন।ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, হামাশের শীর্ষ নেতৃত্ব দোহায় তার বাসভবনে অবস্থান করছিল এবং তাদেরকে নিশানা করা হয়েছিল।
কাতার সরকার এ হামলাকে “রাষ্ট্র-সন্ত্রাসবাদ” ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মতো অভিহিত করেছে, এবং বলেছে তাদের সার্বভৌমত্বকে এ হামলা চিরতরে লঙ্ঘন করেছে।হামাস বলেছে, এই হামলা ছিল শান্তিচুক্তি আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় বাধা দিয়ে দিতে করা একটি তৎপরতা।
হামাসের নেতা জানালেন:“রক্তই হবে বিজয়ের পথ” ─ এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হায়্যা, যেখানে তিনি বলেছেন এই হামলা তাদেরকে থামিয়ে দিতে পারবে না, বরং তাদের প্রতিরোধ আরও দৃঢ় করবে।
তিনি ইসরায়েলের এই হামলাকে একটি মৌলিক আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন — শুধুমাত্র একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টাই নয়, বরং শান্তিচুক্তি ও আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শেষ করতে চাওয়া একটি অভিযান।
আল-হায়্যা এবং হামাস বলেছে, ধরনা হচ্ছে যে ইসরায়েলের কৌশল হচ্ছে কোনোভাবেই মধ্যস্থতা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়, বরং সেটিকে ধ্বংস করা।
হামলা ও এরপরের বিবৃতি অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতারসহ অনেক দেশ এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতি লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
হামাস, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কাছে আবেদন করেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দলবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে — যেমন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কট — যেন এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। শান্তিচুক্তি ও বন্দি মুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার ওপরও এ হামলার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; আলোচনার ওপর বিশ্বাস কমে গেছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।
এই হামলার পর আল-হায়্যার নীরবতা ভাঙ্গা এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি সংকেত যে হামাস মেরুকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চুপ থাকবে না। শান্তি আলোচনার ধরণ ও মধ্যস্থতার ভূমিকা এখন আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
সুত্রঃ এএফপি