ময়মনসিংহে মন্দিরে তালা ভেঙে কালী-লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন)…
মেলবোর্ন,৬ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে সাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বহু শতাব্দী ধরে হারিয়ে যাওয়া এক বিশাল গুপ্তধন। একদল অভিজ্ঞ ডুবুরি ফ্লোরিডার বিখ্যাত ‘ট্রেজার কোস্ট’ বা ধনরত্ন উপকূল থেকে ওই গুপ্তধন উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ১৮ শতকের শুরুর দিকের এক স্প্যানিশ জাহাজবহরের অংশ, যা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গিয়েছিল।
উদ্ধার করা গুপ্তধনের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা)। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজারের বেশি স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা, যেগুলো স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সুবর্ণ যুগের নিদর্শন বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।
গবেষকদের মতে, এই মুদ্রাগুলো বলিভিয়া, মেক্সিকো ও পেরুর স্প্যানিশ উপনিবেশে তৈরি হয়েছিল। ১৭১৫ সালে ওই উপনিবেশগুলো থেকে একাধিক জাহাজে করে এসব গুপ্তধন স্পেনে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু পথে ভয়াবহ ঝড়ে পড়ায় পুরো বহরটি আটলান্টিক মহাসাগরে তলিয়ে যায়। ডুবে যাওয়া ১১টি জাহাজের সঙ্গে সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায় সোনা, রূপা, গয়না ও নানা ঐতিহাসিক সম্পদ।
ফ্লোরিডার ‘ট্রেজার কোস্ট’ অঞ্চলটি অতীতে এমন বহু গুপ্তধন উদ্ধারের জন্য বিখ্যাত। গত কয়েক দশকে এখান থেকে কোটি কোটি ডলারের মুদ্রা ও অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এবার উদ্ধার হওয়া গুপ্তধনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গুপ্তধন অনুসন্ধানকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান কুইন জুয়েলস (Queen Jewels) এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেয়। প্রতিষ্ঠানের ডুবুরিরা উন্নত পানির নিচের ধাতু শনাক্তকরণ যন্ত্র ও হাতে ধরা ফ্যান ব্যবহার করে বালুর নিচ থেকে মুদ্রাগুলো খুঁজে বের করেন।
প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র স্যাল গুটোসো বলেন, “এটা শুধু স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা নয়—এগুলোর প্রতিটিই ইতিহাসের সাক্ষী। প্রতিটি মুদ্রা সেই সময়ের মানুষের জীবন, বাণিজ্য ও সমুদ্রযাত্রার গল্প বলে। একবারে এক হাজারের বেশি মুদ্রা উদ্ধার সত্যিই বিরল ও অসাধারণ ঘটনা।”
ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, সাগরে পাওয়া সব ধরনের গুপ্তধনের মালিক স্থানীয় সরকার। উদ্ধারকৃত গুপ্তধন তাই অঙ্গরাজ্যের মালিকানায় থাকবে। তবে অনুমতি সাপেক্ষে অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের খননকাজ চালাতে পারে এবং কখনও কখনও তারা আবিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট পুরস্কারও পেয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুদ্রাগুলোর লেখচিত্র, খোদাই ও চিহ্ন থেকে ১৮ শতকের বাণিজ্যপথ, সামুদ্রিক যোগাযোগ ও স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফ্লোরিডার ‘ট্রেজার ফ্লিট’ দুর্ঘটনার প্রায় ৩০০ বছর পরও সমুদ্র এখনো সেই হারানো সভ্যতার নিদর্শন ধরে রেখেছে—আর এ আবিষ্কার যেন ইতিহাসের গহিন থেকে উঠে আসা এক ঝলক সোনালি অতীত।
সুত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au