সর্বশেষ

ফেড গভর্নর ও ট্রাম্পবিরোধীদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গ করে মামলা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

  • 7:39 am - October 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১১০ বার
ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক হিসেবে মনোনীত বিল পুল্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে ক্যাপিটল হিলে সিনেট ব্যাংকিং, হাউজিং এবং নগর বিষয়ক কমিটির নিশ্চিতকরণ শুনানির সময় সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ছবিঃ রয়টার্স

মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিযুক্ত এক কর্মকর্তা সরকারি নীতিনৈতিকতার নিয়ম ভঙ্গ করে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিল পল্টে, যিনি ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির (FHFA) পরিচালক, চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর লিসা কুকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের আবেদন করেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব থাকে সংস্থার ইন্সপেক্টর জেনারেলের (OIG) ওপর। কিন্তু পল্টে এই ধাপ এড়িয়ে সরাসরি বিচার বিভাগকে তদন্তের অনুরোধ জানান।

একজন কর্মকর্তা বলেন, “এই রেফারেলগুলো OIG থেকে আসেনি। এটা সবাইকে অবাক করেছে।”

লিসা কুক পল্টের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পল্টে, বিচার বিভাগ, FHFA এবং হোয়াইট হাউস—কোনো পক্ষই এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

পল্টের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য প্রেসিডেন্টের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালু করা। গত মাসে এই অভিযানের ফলেই সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ, যা একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই তদন্তগুলো “ন্যায়বিচারের স্বার্থে,” রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা প্রতিশোধ নয়, এটা ন্যায়বিচারের ব্যাপার।”

কিন্তু আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পল্টে দীর্ঘদিনের সরকারি নীতি ও নৈতিকতার নিয়ম ভেঙেছেন। পাঁচজন অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা রয়টার্সকে জানান, পল্টের পদক্ষেপ “নিরপেক্ষতা” সংক্রান্ত বিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রণীত নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রশাসনের প্রধান নৈতিকতা কর্মকর্তা রিচার্ড পেইন্টার বলেন,
“রাজনৈতিক কারণে কাউকে বিচার করার টার্গেট বানানো যায় না। এটা ফেডারেল আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পল্টের পদক্ষেপ শুধু নৈতিকতা নয়, বরং সংস্থার নিজস্ব প্রক্রিয়া, প্রাইভেসি অ্যাক্টের সুরক্ষা এবং মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী ন্যায্য বিচারের অধিকারকেও লঙ্ঘন করেছে।

তবে এসব নিয়মের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করায়, এই পদক্ষেপের ফলে পল্টের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “র‍্যাডিকাল বামদের দুর্বলতায় ভীত হয়ো না!”

গত সেপ্টেম্বর মাসে সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমির বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে একটি গ্র্যান্ড জুরি মামলা দায়ের করে। ট্রাম্প আগেই সামাজিক মাধ্যমে বিচার অ্যাটর্নি জেনারেলকে কোমিকে অভিযুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কোমি কোনো অপরাধ অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরদের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছেন। পল্টে প্রকাশ্যে লিসা কুককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, তার বাড়ির মর্টগেজ কাগজে অনিয়ম আছে। আগস্টে তিনি সামাজিক মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কুকের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানান এবং তাকে “স্পষ্ট মর্টগেজ জালিয়াত” বলে আখ্যা দেন।

সাধারণত এ ধরনের তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো সংস্থার প্রধান নিজে নয়, বরং ইন্সপেক্টর জেনারেলই তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি বিচার বিভাগে পাঠান। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন বিষয়টি প্রকাশ করা বা অভিযুক্তের নির্দোষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষুণ্ণ করা নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ।

সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর অ্যান্ড্রু টেসম্যান বলেন, “এই তদন্তগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, তার প্রমাণ হলো—অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এরকমভাবে আগে কখনো কিছু ঘটেনি।”

পল্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই FHFA-তে নতুন একটি ‘গোপন তথ্য গ্রহণের লাইন’ খোলেন, যেখানে যেকোনো নাগরিক মর্টগেজ জালিয়াতির তথ্য দিতে পারে। কিন্তু সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, এর আগে থেকেই একই উদ্দেশ্যে ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে এমন একটি চ্যানেল ছিল।

রয়টার্স জানায়, পল্টে হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে সেই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে এড়িয়ে নতুন ব্যবস্থা চালু করেন, যাতে ইন্সপেক্টর জেনারেলের তত্ত্বাবধান এড়ানো যায়।

কুক ছাড়াও পল্টে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম শিফ–এর বিরুদ্ধেও একইভাবে মামলা দায়েরের অনুরোধ করেছেন।
ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে এই তিনজনকে অভিযুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জেমস ও শিফ উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, আর বিচার বিভাগ এখনো কোনো অভিযোগ আনেনি।

এর মধ্যে জেমসের তদন্তের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল প্রসিকিউটর গত মাসে পদত্যাগ করেছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার প্রতি আস্থা হারানোর ঘোষণা দেওয়ার পর।

রয়টার্সের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, পল্টের উদ্যোগের পর থেকে বিচার বিভাগ, এফবিআই, আইআরএস এবং হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল একসঙ্গে এসব তদন্তে কাজ করছে।

গত মাসে রয়টার্স জানায়, লিসা কুক তার এক বাড়ির মর্টগেজ নথিতে সেটিকে “ভ্যাকেশন হোম” হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যা পল্টের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পল্টে দাবি করেছিলেন, কুক ভুলভাবে সেটিকে “প্রধান বাসভবন” হিসেবে দেখিয়ে ভালো শর্তে ঋণ নিয়েছেন। তবে এখনো এসব অভিযোগের কোনো আইনি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…

ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে একদল আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষককে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au