সর্বশেষ

ন্যায়ের রাজনীতি, অন্যায়ের রাজনীতি

  • 9:09 pm - October 07, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৭৭ বার
গ্রাফিক্স ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৭ অক্টোবর- আমি রাজনীতি করি আদর্শিক কারণে। আমার যে আদর্শ সেটা কোন রাজনৈতিক দলের আদর্শের সাথেই পুরোপুরি মেলে না। এবং আমি মনে করি সেটাই স্বাভাবিক। আমার চিন্তার সাথে পুরো মিলে যাবে এমন রাজনৈতিক দল পেতে হলে আমাকে নিজেরই রাজনৈতিক দল খুলতে হবে। এমনকি নিজের রাজনৈতিক দল খুললেও সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা থাকলে অন্য নেতাকর্মীদের মতাদর্শ পরিলক্ষিত হবে। তাদের মতের প্রভাব থাকবে, সুতরাং সেটিও আর পুরোপুরি নিজের মতের সাথে মিলবে না। ঠিক একইভাবে আমার রাজনৈতিক ভাবনার সাথে পুরো মিলে যায় এমন কোন রাজনৈতিক ‘এলাই’ বা ‘বন্ধু’ আমার নাই। এবং তাতে আমার কোন আপত্তিও নাই। কোন মানুষের সাথে যদি আপনার রাজনৈতিক ভাবনা শতভাগ মিলে যায় তবে আর আপনারা দুজন ব্যক্তি থাকেন না, একজন ব্যক্তি হয়ে যান! যেটা আদতে সম্ভব না।

উপরে যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বললাম সেটাই আদর্শ রাজনৈতিক অবস্থান হবার কথা। কেবল আমি এভাবে ভাবি বলেই বলছি না, সবারই এভাবেই ভাবা উচিৎ, সে আপনি যে রাজনৈতিক চিন্তারই মানুষ হন না কেন! তবে রাজনৈতিক অবস্থান সবার এক হবে না। যে ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সরকার ক্ষমতায় আসলে অর্থনৈতিক, সামাজিক নানাভাবে সুবিধাভোগী হন, তাদের রাজনীতি আর আদর্শের থাকে না। সেখানে স্বার্থ চলে আসে। আমি ফেইসবুকে রাজনৈতিক যা লিখি, তার অনেক কিছুই এই গোষ্ঠীর মতাদর্শের সাথে মিলবে না। কারণ হয় তারা মুনাফাভোগী কিংবা ক্ষতির শিকার। যেমন ধরুন আমি আওয়ামী লীগের সময় কোথাও কোন সুবিধা পাই নাই, চাই-ও নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ায় আমি ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আমাকে অনেকে অনেক ভাবে হুমকি দেন, আমার চলাচলের, মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাকে পত্রিকাগুলো থেকে বিনয়ের সাথে বলা হয়েছে আমি যাতে আর রাজনীতি নিয়ে না লিখি। আমার কাছের বন্ধুরা আমাকে দেশে যেতে বারণ করে।

ফলে আওয়ামী লীগ করে আমি কোন লাভের ভাগীদার না হলেও এখনকার অবৈধ অনির্বাচিত সরকারের সময়ে সত্যবাদীতার কারণে, সত্যের পক্ষে ও মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আরও নানা ক্ষতির ব্যাপার আছে, যা নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে উল্লেখ করছি না। আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, আমি যদি আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী না হই, তাহলে আমি কেন ইউনুস ও তার তাঁবেদারি সরকারের বিরুদ্ধে লিখি? কারণ, খুব সোজা, তাদের কর্মকাণ্ড আমার দেশের বিপক্ষে গেছে, আমার মানুষের বিপক্ষে গেছে। আমি যে মিথ্যা বলছি না, তার প্রমাণ গত বছর ছাত্র-জনতার (এবং ষড়যন্ত্রকারীদের) দাবির মুখে সরকার পরিবর্তনের পর আমি আমার পত্রিকার কলামে জনগণের স্বপ্ন যাতে এবার পূরণ হয় সে বিষয়ে কলাম লিখেছিলাম।

আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী-সুশীলগণ এখন উঁচু গলায় বলেন, তারা তো জুলাই মাসেই সব বুঝেছিলেন, অন্যরা বেকুব ছিল – তাদের আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, তারা ভণ্ড। যদি তারা সব বুঝতেই পারত, তাহলে তারা সেই ষড়যন্ত্র ঠেকাতেও পারত। তাদের নেত্রীর কাছে গিয়ে তাকে কথাবার্তা বুঝেশুনে বলবার পরামর্শ দিতে পারত। জিজ্ঞেস করতে পারত কেন নানা গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ রিপোর্টের পরও ওয়াকারকে ক্ষমতা থেকে পতনের মাত্র একমাস আগে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল? বরঞ্চ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ এ আরাফাতকে আমার অনেকটা সৎ মনে হয়। সম্প্রতি নানা বক্তব্যে তিনি বলেছেন, জুলাই মাসে কী হচ্ছিল তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সবকিছু এত দ্রুততার সাথে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হয়ে যাচ্ছিল বিধায় তারা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন।

আমার জুলাই মাসের ফেইসবুক পোস্ট দেখলে বোঝা যাবে আমি কখনও লালবদর ছিলাম না, কিন্তু আন্দোলন কিংবা ষড়যন্ত্র রুখতে পদে পদে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক বক্তৃতা আত্মঘাতী হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, কোটা সংক্রান্ত দাবী যেটা হাইকোর্ট সুস্পষ্টভাবেই সরকারের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে নাটক ভয়াবহ বেঠিক ছিল – সর্বোপরি জুলাইয়ের শেষে সবকিছু যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে তখন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-পুলিশ-সেনাবাহিনীতে বরখাস্ত রদবদল ইত্যাদি না করে গোঁ ধরে বসে থাকা ভুল ছিল। এরপর অগাস্টের শুরুতে পদত্যাগ করে একটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে টিকে যাওয়া ছিল শেষ সম্ভাবনা, সেটাও বিবেচনা করা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে যা যা লিখেছি জুলাই-অগাস্ট ২০২৪ এ তার সবই আমি লিখেছি। যারা খুঁজতে চান, খুঁজলে পাবেন।

আমি এখন যে লিখি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করি তার কারণ এই নয় যে আমি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে চাই। আবার তার মানে এও নয় যে আমি চাই না তিনি ক্ষমতায় আসুন। আমি মনে করি আমার কাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কোন ব্যক্তির স্বার্থ দেখা আমার কাজ নয়। কারণ আমি কোন ব্যক্তির অনুগত নই, আমি আদর্শের অনুগত। আমার কাছে এটা প্রায় অবিশ্বাস্য ঠেকে যে ২০২৫ এ এসে মানুষ কোন রাজনৈতিক নেতাকে ঈশ্বরের মতো পুজো করে। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, সজীব ওয়াজেদ জয়, ইউনুস – এরা সবাই মানুষ এবং তাদের কাজ মানুষের সেবা করা। তাদের কাজ আমাদের অর্থাৎ ভোটারদের পুজো করা। কিন্তু এদের কেউ-ই তা করে না। ইউনুস দেশের সাংবাদিকদের এমনকি সাক্ষাতকারও দেয় না। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের প্রতি কেন একজন মেরুদন্ডওয়ালা মানুষের আনুগত্য থাকবে? ভালোবাসা থাকতে পারে, শ্রদ্ধা থাকতে পারে, থাকতে পারে কৃতজ্ঞতাও।

আমি শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ ১৬ বছরে বাংলাদেশে অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য, বাকস্বাধীনতার জন্য, পদ্মা সেতুর জন্য, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য, মেট্রোরেলের জন্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য, বিদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দেবার জন্য। এমন শত শত কাজ তিনি করেছেন, যা বাংলাদেশে আর কোন নেতা করেননি, ভবিষ্যতে আবার কবে করতে পারবেন সন্দেহ। এই তো। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমরা যে নিয়োগ দিয়েছিলাম, তিনি সেই কাজটি মোটামুটি ভালোভাবে সম্পন্ন করেছেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে যে কাজ আর কেউ এত নিপুণভাবে সম্পন্ন করতে পারে নাই। সত্য বলতে কী শেখ হাসিনার চাইতে যোগ্য ও সফল প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় আর কখনও কেউ ছিল কিনা আমি সেই প্রশ্ন করতে পারি।

এখন জুলাই ষড়যন্ত্রের পর আগস্টে সরকার পতনের কারণে এই ন্যারেটিভ কিছুটা ধামাচাপা পড়ে গেছে। কিন্তু যত সময় গড়াবে, ইতিহাসের পাতায় শেখ হাসিনা তার হারানো সম্মান ফিরে পাবেন। যেমন স্বাধীনতাবিরোধীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার ব্যাপারে মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা সফলভাবে চালিয়েছিল বেশ কয়েক বছর, কিন্তু আদতে ৫০ বছর পর এখন মানুষ জানে বঙ্গবন্ধু কে এবং কীভাবে তার জন্যই আজকের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যারা এখনও মিথ্যাচার করে, বিষোদগার করে, তার ব্যাপারে যাদের বিদ্বেষ ও বিতৃষ্ণা আছে – তার পুরোটাই ধর্মীয় অন্ধত্ব, পাকপ্রেম ও কুশিক্ষার ফসল, আর কিছু নয়। জুলাই ২০২৪ এর ষড়যন্ত্র যত উন্মোচিত হবে, ধীরে ধীরে যত তথ্য-প্রমাণ মানুষের কাছে পৌঁছুবে, শেখ হাসিনাও তার হারানো সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাবেন – এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।

তবে শেখ হাসিনা আর কখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। হতেও পারেন, নাও পারেন। এর মূল কারণ তার যোগ্যতা নয়, তার বয়স। ৮০ বছরের একজন মানুষ ৮৫ বা ৯০ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন না তোলাটাই দলদাসের চিহ্ন। একজন প্রকৃত আওয়ামী লীগার হিসেবে আমি এই প্রশ্ন করতে কখনও কুণ্ঠিত হই না, কারণ আমি আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী নই এবং আমি ৩০ বছর পর ২০৫৫ সালে  আওয়ামী লীগ কীভাবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে সেই চিন্তাও করি। তখনকার প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটিও আমি ভাবি। তাকে কীভাবে এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে, সেই ভাবনা আমার রয়েছে। একই সাথে আমি এ কথাও বলি যে বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যেসব নেতারা আছেন, শেখ হাসিনার হাইহিল স্যান্ডেলের নিচের একটা ধুলিকণার যোগ্যতা তাদের কারও নাই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে আদর্শ, সুরচিত গঠনতন্ত্র তার নখের সমান আদর্শ বাংলাদেশের অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নাই।

ইউনুসের হাতে একটি অমিত সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশকে পুরো খোলনলচে পাল্টে সাজিয়ে ফেলার। সে সেটা করেনি। করার যোগ্যতা নেই আসলে। ইউনুসের উত্থান একজন পশ্চিমা দাস হিসেবে, এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তার নাই। ইউনুস সত্য বলতে কি শেখ হাসিনার দাসও হতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা সেই সুযোগ হেলায় হারিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যদি ইউনুসকে তার উপদেষ্টা বানাতেন, তাহলে দুজনে মিলে দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পারতেন। অনেকে বলেন শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণ কারণ তিনি তার সবচেয়ে বড় শত্রু ইউনুসকে চিনেছিলেন যার হাতে তিনি ক্ষমতা হারিয়েছেন। আমি বলি শেখ হাসিনা বিচক্ষণ কারণ তিনি সবচেয়ে বড় শত্রুকে চিনতে পেরেছিলেন, কিন্তু তিনি অপরিণামদর্শী কারণ সবচেয়ে বড় শত্রুকে চিহ্নিত করেও তিনি তাকে মিত্র বানাতে পারেননি, তার হাতে পরাস্ত হয়েছেন। অনেক নির্বোধ লীগ কর্মী বলবে হাসিনা আপোষ করেন না, তিনি দেশদ্রোহী ইউনুসের সাথে আপোষ করেননি। দয়া করে এই কথা বলবেন না, শেখ হাসিনা আপোষ করার ওস্তাদ ছিলেন। তিনি ৮৬’র নির্বাচনে এরশাদের সাথে আপোষ করেছিলেন, ৯৬ এর রাস্তার সংগ্রামে জামায়েতের সাথে আপোষ করেছেন, তিনি ২০১৪ থেকে ২০২৪ ভারতের সাথে আপোষ করেছেন। আপোষ সবসময় খারাপ না, কিছু আপাত আপোষ দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।

আমি আওয়ামী লীগ করি এবং করব। কারণ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের একমাত্র আদর্শিক দল। তাদের যতটুকু বিচ্যুতি হয়েছে তা নেতৃত্বের কারণে, দলের কারণে, গঠনতন্ত্রের কারণে নয়। নেতৃত্বের গুণগত মান বৃদ্ধি সম্ভব, পরিবর্তন সম্ভব, উৎকর্ষ সাধন সম্ভব কিন্তু দলের প্রায় অসম্ভব। যে বাংলাদেশে আমরা বড় হয়েছি, যে অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু করেছিলেন, তা আওয়ামী লীগ ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এখন সেই বাংলাদেশ যদি এ দেশের নাগরিকরা না চায় তা একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কিন্তু যারা বলে অগাস্ট ২০২৫ এ আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তারা তবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে কোন আতঙ্কে? নৌকা প্রতীক তাদের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় কোন রোষানলে? কারণটা খুব সহজ, তারা প্রতিশোধ নিচ্ছে ১৯৭১ এর পরাজয়ের, তারা জানে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তার শীর্ষে, নৌকাই মানুষের প্রথম পছন্দ। বাংলাদেশের মানুষ কাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় জানতে হলে গুলশান থেকে বের হয়ে একটু গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে আসুন। বুঝবেন নির্বাচনের হাওয়া কোনদিকে।

আরেকটা কথা বলি, আপনারা অনেকে বিভ্রান্ত হন যে জুলাই-অগাস্ট ২০২৪ এ যারা কলকাঠি নেড়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের অনেকেই একসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল। আমি আপনাদের অনুরোধ করি, একটু গবেষণা করে এদের কিংবা এদের শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুই-তিন প্রজন্ম আগে কোন রাজনৈতিক বিশ্বাসের ছিল খোঁজ নিয়ে দেখুন। তাদের মুসলিম লীগ, পাকিস্তান পিপলস পার্টি কিংবা জামায়েত ইসলামী পাকিস্তানের সাথে সংশ্লিষ্টতা পেয়ে যাবেন। এমনকি শহিদুল ফটোগ্রাফারের মতো জাতীয় বেইমানরা এই স্বাধীন দেশে বসে শেখ হাসিনার আমলেই ৭১ ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়েছে – আর আপনারা বলেন শেখ হাসিনার সময়ে বাকস্বাধীনতা ছিল না! শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাধাহীনভাবে ক্রমাগত ১৫ বছর যে আসিফ নজরুল, রেজওয়ানা হাসান, ফরিদা আখতার, সালেহ উদ্দিন, আদিলুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত, শারমিন মুরশেদ ইত্যাদিরা বলে গেছেন, লিখে গেছেন, আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে গেছেন তারাই হয়েছে অনির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি। এদের সবার পাকি সংযোগ আপনি একটু খুঁজলেই পাবেন।

আজকের লেখার সারাংশ বলি। আপনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলুন, শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলুন, সমস্যা নাই। তথ্য দিয়ে বলুন, যুক্তি দিয়ে বলুন। একই সময়ে তাদের সমালোচনা করুন, উন্নয়নের পথ বাতলে দিন। অনেকে আপনাকে বলবে এখন বিভেদের সময় নয়, তাদের ধমকে দিয়ে বলুন, আপনি বিভেদ করছেন না, আপনিই দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনছেন দীর্ঘমেয়াদে ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে আবার প্রগতির পথে ফিরিয়ে আনতে। এই কাজটি আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনি বা আপনার পরিবার কোন সুবিধা নেননি, সামনেও নিতে চান না কিংবা এই মুহূর্তে সুবিধা পাচ্ছেন না। দয়া করে নিজের মেরুদণ্ডটা একটু খুঁজুন।

আপনি যদি আমার মতো সুবিধাভোগী না হন, তবে লড়াই করুন, সংগ্রাম করুন, কিন্তু মাথা উঁচু করে। অত সস্তায় বাপ-দাদার দেয়া এই উপহারটা দলদাস কিংবা নেতাভৃত্য হয়ে বিকিয়ে দেবেন না!


লেখক- চিন্তাবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ।

এই শাখার আরও খবর

বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বিএসপিসির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার ইনকরপোরেটেড (BSPC)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ২০২৬ অনুষ্ঠিত…

অমিত শাহ-ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ভারতের পার্লামেন্ট উত্তাল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের…

দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল দিল্লি, বাধা ডিঙিয়ে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন এখন দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, স্বচ্ছতা নিশ্চিত…

জর্দানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে মৃত ঘোষণা, নিহত বেড়ে ১৮

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর জর্দানে নিখোঁজ থাকা আরও এক মার্কিন সেনাসদস্যকে মৃত বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। এর…

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, জরুরি তহবিল চাইল পেন্টাগন

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই)…

গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে দুর্ভোগ

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ময়মনসিংহের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সংকটের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। প্রায় আধাঘণ্টার এ কর্মসূচিতে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au