যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন।ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি শাটডাউন (সরকারি কার্যক্রম স্থগিত) পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। টানা পঞ্চম দফায়ও ব্যর্থ হয়েছে বাজেট বিল পাসের প্রচেষ্টা, ফলে দেশজুড়ে ফেডারেল সংস্থাগুলোর কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলীয় সিনেটরদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের কারণে বাজেট বিল অনুমোদন হয়নি। রিপাবলিকান নেতারা সরকারি ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়ে বিলের বিরোধিতা করেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সামাজিক খাত ও জলবায়ু প্রকল্পের অর্থায়ন বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।
শাটডাউনের কারণে ফেডারেল কর্মচারীদের বেতন বন্ধ, বহু সরকারি দপ্তর আংশিকভাবে বন্ধ এবং জাতীয় উদ্যান, গবেষণা প্রকল্প ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মচারী সাময়িক ছুটিতে রয়েছেন।
ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, “যদি চলতি সপ্তাহেও সমঝোতা না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়বে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা এমন একটি বিল চাই যা জনগণের অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যয় নিশ্চিত করবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় আমরা থামাব।”
তিনি আরও জানান, সরকারি সংস্থাগুলোর ‘অদক্ষ ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ড’ সংস্কারের জন্যই শাটডাউন পরিস্থিতি দীর্ঘ হচ্ছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে “রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল” হিসেবে শাটডাউনকে দীর্ঘায়িত করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই শাটডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ডলার দুর্বল হয়েছে, শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা-দেখো নীতিতে রয়েছে।
মার্কিন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, “সরকারের প্রতিটি দিন বন্ধ থাকা মানে শত শত মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি।”
যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম দফায় বাজেট বিল পাসে ব্যর্থতার ফলে, সরকারি শাটডাউন আরও অনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
সুত্রঃ বিবিসি