মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে এবারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
৫৮ বছর বয়সী মাচাদো কেবল একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকৌশলীও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্বৈরশাসন উৎখাত করে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামের জন্য মাচাদোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে বিজয়ীর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
১৯০১ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেলের ‘ইচ্ছা ও দৃষ্টিভঙ্গির’ ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের যোগ্য ব্যক্তিদের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। তবে ইতিহাসে বেশ কয়েকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার মাত্র একবারই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
১৯৭৩ সালে ভিয়েতনামের রাজনীতিক লে ডুক থো এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানে ভূমিকার জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
তবে লে ডুক থো পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ হিসেবে তিনি বলেন,ভিয়েতনামে তখনো সংঘাত চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে কিসিঞ্জার পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে সায়গনের পতনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান।
কোনো ব্যক্তি কখনো দুইবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি, তবে দুটি সংস্থা একাধিকবার এ পুরস্কার অর্জন করেছে-আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ICRC): ১৯১৭, ১৯৪৪, ১৯৬৩।জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (UNHCR): ১৯৫৪, ১৯৮১।
সব মিলিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সাতবার নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছে।
১৯০১ সালের পর থেকে ১৯ বার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
বিশেষত ১৯১৪–১৯১৬, ১৯১৮, ১৯২৩, ১৯২৪, ১৯২৮, ১৯৩২, ১৯৩৯–১৯৪৩, ১৯৪৮, ১৯৫৫–১৯৫৬, ১৯৬৬–১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে।কারণ হিসেবে বলা হয়-যুদ্ধ চলা বা উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে পুরস্কার স্থগিত রাখা হয়েছিল।
একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ১৯৪৮ সাল। ওই বছর মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়। তাঁকে একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হলেও, কমিটি ঘোষণা করে-“উপযুক্ত জীবিত প্রার্থী নেই।”
পরে এই সিদ্ধান্তকে গান্ধীর প্রতি পরোক্ষ শ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নরওয়ের নোবেল কমিটি ১৮৯৭ সালে গঠিত হয়।
কমিটির পাঁচ সদস্যকে নরওয়ের সংসদ ছয় বছরের জন্য মনোনীত করে। সদস্যরা সংসদের বর্তমান সদস্য হতে পারেন না, তবে মেয়াদ শেষে পুনর্নিয়োগযোগ্য।এই বছরের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োর্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস (৪১)।
অন্য সদস্যরা হলেন,আসলে তোয়ে (৫১), অ্যান এঙ্গার (৭৫), ক্রিস্টিন ক্লেমেট (৬৮) ও গ্রাই লারসেন (৪৯)।
সুত্রঃ নোবেল ইনস্টিটিউট, ও রয়টার্স